শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২৩:৩০

প্রয়োজন সতর্কতা

করোনাভাইরাস

অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ

করোনাভাইরাস

করোনাভাইরাস নিয়ে বিশ্বব্যাপী আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। তবে আতঙ্ক নয়, প্রতিরোধে দরকার সচেতনতামূলক পদক্ষেপ। প্রায় ২০০ প্রজাতির ভাইরাসের এক বিশাল পরিবার করোনাভাইরাস, যা একক কোনো ভাইরাস নয়। সাধারণত বন্য প্রাণীর দেহে এরা বসবাস করে। এ পর্যন্ত পশুপাখি থেকে বিভিন্ন সময়ে মাত্র ছয় ধরনের করোনাভাইরাস মানবদেহে ছড়িয়েছে। এর আগে অজান্তে কেউ হয়তো করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এবং ভাইরাল ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো সাধারণ সর্দি-কাশি, জ্বর হয়ে কয়েক দিনের মধ্যে হয়তো ভালো হয়ে গেছে। কিন্তু সেই করোনাভাইরাসের প্রজাতিগুলো খুব একটা মারাত্মক না হওয়ায় হয়তো বা তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে চীনে পাওয়া মানবদেহে সংক্রমণকারী করোনাভাইরাস নিয়ে বেশ আতঙ্ক ছড়িয়েছে বিশ্বব্যাপী।

নতুন প্রজাতি : চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহানের একটি সামুদ্রিক মাছের বাজার থেকে গত ৭ জানুয়ারি নতুন এক প্রজাতির করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে, যার নাম দেওয়া হয়েছে 2019-nCOV বা wuhan CORONA virus। যদিও এটি সামুদ্রিক মাছের বাজার, তবে এখানে অবৈধভাবে বিভিন্ন বন্য পশুপাখি যেমন- বাদুড়, সাপ, কুকুর, শিয়াল প্রভৃতি বিক্রি করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, বাদুড় বা ক্রেইট (এক ধরনের সাপের প্রজাতি) থেকে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। তবে নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্র থেকে সে প্রমাণ মেলেনি। জানা গেছে, গত বছরের ১২

ডিসেম্বর প্রথম রোগী শনাক্ত হয় এবং ১ জানুয়ারি ওই মাছ ও বন্যপ্রাণীর বাজার সরকারিভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রায় এক মাস ধরে বাজারে আসা কয়েক লাখ মানুষের মধ্যে ভাইরাস সংক্রমিত হয়েছে। তবে যারা আক্রান্ত হয়েছে, সবাই যে মারা গেছে তেমন নয়। এখন পর্যন্ত 2019-nCOV করোনাভাইরাস দ্বারা আক্রান্তের সংখ্যা এবং সংক্রমণজনিত মৃতের সংখ্যা দু-তিন ভাগের বেশি নয়।

ঝুঁকি বেশি যাদের : যে কেউ আক্রান্ত হতে পারে। তবে শিশু, বৃদ্ধ, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসের রোগী, ক্যান্সার, কিডনি, হার্ট, লিভার ফেইলিওর রোগী অর্থাৎ যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম তাদের আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা এবং মৃত্যুঝুঁকি বেশি।

চিকিৎসা : করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর এর কোনো সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। সাধারণ লক্ষণগুলো দেখে সাপোর্টিভ ট্রিটমেন্ট দেওয়া হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেহের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বা ইমিউন সিস্টেমই এই রোগ মোকাবিলা করে। যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম, তারা ঝুঁকিতে থাকে বেশি।

প্রতিরোধে  করণীয় : এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসের কার্যকর কোনো ওষুধ বা ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত হয়নি। তাই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করে প্রতিরোধের চেষ্টা করাই সবচেয়ে ভালো উপায়। করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) কিছু পরামর্শ দিয়েছে। এ জন্য কিছু করণীয় হলো-

♦ প্রথম কাজ হলো ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার দিকটিতে বিশেষভাবে খেয়াল রাখা। সবারই উচিত দিনে কয়েকবার সাবান-পানি দিয়ে হাত-মুখ ধোয়া। বিশেষ করে বাইরে থেকে এলে বা রোগীর সংস্পর্শে এলে। সাবান না থাকলে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে। ♦ নাক এবং মুখ ভালোভাবে ঢেকে রাখুন। সাবান ও পানি ব্যবহার করে হাত পরিষ্কার করুন। হাত না ধুয়ে চোখ, নাক এবং মুখ স্পর্শ করবেন না। ♦ কাশি ও হাঁচি দেওয়ার সময় মুখ ও নাকে টিস্যু দিয়ে আচ্ছাদিত করে তাৎক্ষণিকভাবে সেই টিস্যু ফেলে দিন এবং হাত ধুয়ে ফেলুন। ♦ ফেস মাস্ক কিছুটা সুরক্ষা দেয় বলে বাইরে বের হলে ফেস মাস্ক পরে বের হোন। সংক্রমিত ব্যক্তি এবং তাদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি উভয়েরই এই ফেস মাস্ক ব্যবহার করা উচিত। ভালো হয় ঘ-৯৫ মাস্ক হলে। সেটা না হলেও অন্ততপক্ষে সার্জিক্যাল মাস্ক পরুন। ♦ অসুস্থ ব্যক্তিদের থেকে যতটা সম্ভব দূরত্ব বজায় রাখুন। তাদের ব্যবহৃত বাসন ব্যবহার করবেন না এবং তাদের স্পর্শ করবেন না। ♦ হাঁস-মুরগি বা অন্য যে কোনো প্রাণী, বিশেষ করে যদি রোগাক্রান্ত হয়, তাহলে সেগুলো থেকে দূরে থাকুন। ♦ জীবন্ত প্রাণী ও প্রাণীর দেহ সংশ্লিষ্ট সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন। প্রাণীর সংস্পর্শে এলেও পরে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলুন।  ♦ কাঁচা বা স্বল্প রান্না করা পশুর মাংস, দুধ, ডিম খাবেন না। ♦ যারা অসুস্থ, বিশেষ করে জ্বর ও কাশিতে আক্রান্ত, তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এড়িয়ে চলুন। তাদের ব্যবহৃত জিনিসপত্র থেকেও দূরে থাকুন। ♦ প্রচুর পানি পান করুন, প্রতিদিন হাত মুখ ধোন, গোসল করুন। ♦ যদি জ্বর ও কাশি থাকে এবং শ্বাস নিতে সমস্যা হয়, দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। রিস্ক জোন (অর্থাৎ চীন) বা অন্য কোনো দেশে সম্প্রতি ভ্রমণ করে থাকলে চিকিৎসককে জানান। তাই সচেতন হোন।

লেখক : প্রখ্যাত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এবং প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক।


আপনার মন্তব্য