ছয় কোনাকৃতির উঁচু প্ল্যাটফর্ম। ওপরে উলম্বভাবে দাঁড়িয়ে আছে সাদা রঙের চারটি স্তম্ভ। যা বাহাত্তরে রচিত দেশের প্রথম সংবিধানের মূলনীতি-জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা নির্দেশ করে। পেছনেই রয়েছে ধূসর ও লালচে রঙের এক দৃষ্টিনন্দন ম্যুরাল। যা একাত্তরে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বের প্রতীক। ঐতিহাসিক এ স্থানটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। রাজনৈতিক বাঁকবদলের অর্ধশত বছরেও ক্যাম্পাসে সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে এ ঐতিহাসিক দলিল। ১৯৭২ সালের ৯ মে শেখ মুজিবুর রহমান এ শহীদ মিনারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ১৯৭৫ সালের ২৩ এপ্রিল নির্মাণকাজ শেষ হলে উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এম মনসুর আলী। দেশের অন্যদের তুলনায় ব্যতিক্রমী এ শহীদ মিনার প্রায় সবারই নজর কাড়ে। সমতল ভূমি থেকে সিঁড়ি বেয়ে কয়েকধাপ ওপরে উঠলেই দেখা যায় সাদা রঙের সুউচ্চ চারটি স্তম্ভ। যা স্তম্ভ শীর্ষে কৌণিক বন্ধনী দিয়ে আবদ্ধ। ওপরের বন্ধনীতে মূলমন্ত্রে ঐক্যবদ্ধতার দিকটি প্রকাশ পায়। মিনারের পেছনেই রয়েছে মনোমুগ্ধকর একটি ম্যুরাল। নান্দনিক গঠনশৈলী এবং উপাদানের বৈচিত্র্যে অনন্য এ ম্যুরালটি নির্মাণ করেছেন বিখ্যাত শিল্পী মর্তুজা বশীর। ধূসর ও খানিকটা লালচে রঙের পোড়া ইট ও পাথরে নির্মিত এক স্নেহময়ী মা ও তার সন্তানদের অবয়ব। ম্যুরালটি সূর্যের উপস্থিতিতে শহীদ সন্তানদের বীরত্বকে উপস্থাপন করে। তা ছাড়া মায়ের অঞ্জলি নিবেদনের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি প্রগাঢ় ভালোবাসার বিষয়টিও ফুটিয়ে তোলেন শিল্পী। শহীদ মিনারের পাদদেশে বেয়ে পূর্বদিকে রয়েছে শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালা। এ সংগ্রহশালার ডিজাইন করেন স্থপতি মাহবুবুল হক। সংগ্রহশালায় রয়েছে বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের নানা রাজনৈতিক ঘটনাবলির আলোকচিত্র, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক নানা শিল্পকর্ম, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের আলোকচিত্র, তাদের ব্যবহৃত জিনিসপত্র। সম্প্রতি জুলাই গণ অভ্যুত্থানের গৌরবময় ইতিহাসও এখানে সংরক্ষণ করা হয়েছে। সংগ্রহশালার কোল ঘেঁষে রয়েছে একটি মুক্তমঞ্চ। যার পেছনের দেয়ালে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে গ্রামবাংলার আবহমান দৃশ্য। যা নির্মাণ করেন শিল্পী ফণীন্দ্রনাথ রায়। মঞ্চটি নানা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়। ক্যাম্পাসের এ স্থানটি শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের নানাভাবে আকৃষ্ট করে। রাকসুর বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক ইমরান লস্কর বলেন, ‘স্বাধীনতার লক্ষ্যে লড়েছেন মুক্তিযোদ্ধারা। তাদের মূল স্পিরিট ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার। কিন্তু স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের বাহাত্তরের সংবিধানে এ তিন মূলনীতিকে বাদ দিয়ে সম্পূর্ণ নতুন চার মূলনীতি- গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও জাতীয়তাবাদ নামে হাজির করা হয়। পরবর্তীকালে, ইতিহাসের পরিক্রমায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার বাহাত্তরের চার মূলনীতির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু জুলাই গণ অভ্যুত্থানের সংস্কারধর্মী স্পিরিটের ওপর পাঁচ মূলনীতি নিয়ে আসার প্রস্তাবনা রয়েছে। আমি মনে করি, শহীদ মিনার শহীদদের স্মরণে একটি অবকাঠামোগত ঐতিহাসিক দলিল।
শিরোনাম
- টি-টোয়েন্টি ব্যাটিংয়ে অভিষেক-ইশানের রাজত্ব
- পাকিস্তানকে হেসেখেলে হারাল বাংলাদেশ
- গণহত্যা দিবস ও স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সোনারগাঁয়ে প্রস্তুতিমূলক সভা
- বাউবি ও বিপসটের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই
- সিলেটে সেই ছিনতাইয়ের ঘটনার মূলহোতা গ্রেপ্তার
- স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ছাড়া আধুনিক নগর সম্ভব নয় : আইজিপি
- নীলফামারীর রাজস্ব প্রশাসনে লটারির মাধ্যমে ২৫ জনের পদায়ন
- পাকিস্তানকে ১১৪ রানে অলআউট করল টাইগাররা
- দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি দিল রাসিক
- হরমুজ প্রণালিতে তিনটি কার্গো জাহাজে হামলা
- ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া থেকে রক্ষায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
- নোয়াখালীতে দোকানের মালিকানা নিয়ে বিরোধ, পুলিশের উপস্থিতিতে উদ্ধার
- ওয়ানডে ক্যারিয়ারে প্রথমবার নাহিদের ৫ উইকেট
- বরিশালে টিসিবির পণ্যসহ ট্রাক আটক
- সরকারি অফিসে আকস্মিক পরিদর্শনে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী
- বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনে গণভোট থাকছে না : ইসি সচিব
- স্ত্রীসহ মনিপুর কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ফরহাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
- অগ্রণী ব্যাংকের ভল্ট থেকে ৪৩ কোটি টাকা গায়েব, পালালেন কর্মকর্তা
- খাগড়াছড়িতে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও পরিবেশ রক্ষায় দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ
- সংশোধনের অপেক্ষায় ১ লাখ ৩০ হাজার এনআইডি আবেদন
নীরব ঐতিহাসিক দলিল
রায়হান ইসলাম, রাবি
প্রিন্ট ভার্সন
এই বিভাগের আরও খবর
সর্বশেষ খবর
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হতে লাগবে না স্নাতক পাস
২৩ ঘণ্টা আগে | মন্ত্রীকথন
নিশ্চিহ্ন না হতে চাইলে নিজের দিকে খেয়াল রাখুন, ট্রাম্পকে ইরানের হুঁশিয়ারি
২১ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম
মার্কিনি ও ইহুদিবাদিদের গোপন আস্তানা প্রকাশে মুসলিমদের প্রতি ইরানের আহ্বান
৪ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম