আবতাহি বিন জামিল। বয়স ১৪ বছর। ইতোমধ্যে দেশি-বিদেশি লেখকের দুই শতাধিক বই পড়েছে সে। লালপুর শ্রী সুন্দরী পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী জামিল। ছোটোবেলা থেকে বই পড়তে ভালোবাসে সে। বাবার কাছে উপহার হিসেবে সব সময় বইয়ের কথাই বলত। পাঠ্যবইয়ের বাইরে প্রতিদিন সময় করে দেশি-বিদেশি গুণী লেখকদের বই পড়ে সে। ২০২৩ সালে ‘বইপোকাদের আড্ডাখানা গ্রুপে’ বই রিভিউ করে পুরস্কার জেতার একটি পোস্ট দেখে। সেদিনই জামিল বইটি পড়ে পাঠপ্রতিক্রিয়া দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করা অন্য পাঠকদের মধ্যে জামিলের পাঠপ্রতিক্রিয়া ছিল ব্যতিক্রম। প্রথম বইয়ের রিভিউ দিয়ে পুরস্কার জেতে। বই পড়ায় আগ্রহ বাড়ে তার। জামিলের বাসা নাটোর জেলার লালপুর উপজেলার গোপালপুর পৌরসভায়। জামিল আকতার রানা ও উম্মে সালমা হক দম্পতির প্রথম সন্তান জামিল। বাবা জামিল একটি কলেজের আইসিটি শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। মা উম্মে সালমা হক ছিলেন একটি হাইস্কুলের শিক্ষিকা। জামিলের মা ২০২৪ সালে মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। ছোটোভাইয়ের বই পড়ার প্রবল আগ্রহ দেখে ২০২২ সালে তার বড় ভাই আবরার বিন জামিল তারই স্মার্টফোন দিয়ে ফেসবুক পেজ খুলে দেন। পেজের নাম দেন ‘পুরনস বুকশেলফ’। বই পড়ে এখানে রিভিউ দেয় জামিল। এ পর্যন্ত শতাধিক বইয়ের পাঠপ্রতিক্রিয়া পোস্ট করেছে ফেসবুক এবং ইউটিউবে। সব সোশ্যাল মিডিয়া মিলে তার অনুসারী আছে ২০ হাজারের মতো। তার নিজস্ব সংগ্রহে রয়েছে চার শতাধিক বই। মাঝেমধ্যে ইংরেজি বইয়েরও পাঠপ্রতিক্রিয়া দেয় সে। বই পড়ার অভ্যাস ছড়িয়ে দিতে স্কুলের সহপাঠীদের নিয়ে নিজ স্কুলেই গড়ে তুলেছে ‘অক্ষরকুঞ্জ’ নামে একটি পাঠচক্র। এর মাধ্যমে স্কুলের অনেক শিক্ষার্থীকে বইমুখী করেছে সে। সম্পূর্ণ নিজের সংগ্রহের বই দিয়ে বুক ক্লাবটি পরিচালিত হচ্ছে। এখন বই নিয়ে ভিডিও তৈরি করছে। আবতাহি বিন জামিল বলে, ‘আমি চাই মানুষ মোবাইল আসক্তি থেকে বের হয়ে বই পড়ায় ফিরে আসুক, বই নিয়ে আলোচনা করুক।’
-গৌরীপুর, ময়মনসিংহ।