যুদ্ধে নিশ্চিত পরাজয় জেনেও যে বীর পিছু হটেন না, তিনিই ‘সংশপ্তক’। শত্রুবেষ্টিত অবস্থায় শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়াই যার ব্রত। বাঙালির মহান মুক্তি সংগ্রামের সেই অদম্য চেতনাকে পাথরে খোদাই করে মূর্ত করে তোলা হয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে দৃপ্ত ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকা এই ভাস্কর্যটি কেবল একটি শৈল্পিক স্থাপনা নয়, বরং এটি বাঙালির স্বাধীনচেতা ও দেশপ্রেমিক অকুতোভয় বীরত্বের প্রতিচ্ছবি। সংশপ্তক ভাস্কর্যটির দিকে তাকালে প্রথমেই চোখে পড়ে এক অকুতোভয় যোদ্ধার অবয়ব। যুদ্ধে শত্রুর আঘাতে তিনি হারিয়েছেন একটি হাত এবং একটি পা। কিন্তু শারীরিক এই সীমাবদ্ধতা তাকে থামাতে পারেনি। এক পায়ে ভর দিয়েই তিনি দাঁড়িয়ে আছেন সগৌরবে, হাতে ধরা রাইফেল। এই দৃশ্যটি মনে করিয়ে দেয় ১৯৭১ সালের সেই উত্তাল দিনগুলোকে, যেখানে গ্রামবাংলার আপামর জনতা ও মুক্তিযোদ্ধারা প্রাণ উৎসর্গ করতে দ্বিধা করেননি। ১৯৯০ সালের ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে এই স্মারক ভাস্কর্যটি নির্মিত হয়। এর স্থপতি প্রখ্যাত ভাস্কর হামিদুজ্জামান খান। আধুনিক স্থাপত্যশৈলী আর আবেগের মিশেলে তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন দেশমাতৃকার এক বীরকে, যে কি না মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও পরাজয় বরণ করছেন না। কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে প্রবেশের মুখেই শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন এই ভাস্কর্যের মুখোমুখি হন। এটি শুধু একজন শিল্পীর নিপুণ সৃষ্টিই নয়, বরং দেশপ্রেমের এক উজ্জ্বল প্রতীক। যা শিক্ষার্থীসহ সবার মনে দেশাত্মবোধের চেতনা জাগ্রত করে। পঙ্গুত্ববরণ করেও যোদ্ধার লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ভঙ্গি শিক্ষার্থীদের শেখায় প্রতিকূলতার মাঝেও হার না মানতে। জীবনযুদ্ধে বা শিক্ষাজীবনের নানা সংকটে এই ভাস্কর্যটি শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে সুদৃঢ় হতে সাহায্য করে। নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়ে যারা দেশ স্বাধীন করেছেন, তাদের ত্যাগের স্মৃতি শিক্ষার্থীদের মনে করিয়ে দেয় যে, পড়াশোনা শেষে তাদেরও দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্যের একটি বড় অংশজুড়ে রয়েছে এই ভাস্কর্যটি। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্ব ও গাম্ভীর্য বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। স্বাধীনতার মহান স্মৃতি আর গৌরবের মহিমায় ভাস্বর এই ‘সংশপ্তক’ প্রজন্মের পর প্রজন্মকে জানিয়ে দিচ্ছে-বাঙালি জাতি কখনো মাথা নত করতে শেখেনি। সবুজ ক্যাম্পাসে এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই বীর যোদ্ধা যেন নিঃশব্দে বলছে, ‘দেশের প্রয়োজনে থেমো না, এগিয়ে চলো অকুতোভয় চিত্তে।’ দেশের পক্ষে ন্যায় প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের প্রেরণা হিসেবে এই ভাস্কর্যটি কাজ করে বলে মনে করেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা জানান, জীবন দিয়ে দেশকে মুক্ত করার সংগ্রামের চিত্রই যেন চোখের সামনে ভেসে ওঠে এই ভাস্কর্যের দিকে তাকালে।
শিরোনাম
- নারায়ণগঞ্জে বকেয়া বেতনের দাবিতে সড়ক অবরোধ
- ভরাট ও দখল–দূষণে মৃতপ্রায় হাওরের খাল, সেচ সংকটে কৃষকেরা
- বগুড়ায় সাংবাদিক রউফ জালালের ইন্তেকাল
- ইরান যুদ্ধে ছয় দিনে আমেরিকার খরচ ১১ বিলিয়ন ডলারের বেশি: ট্রাম্প প্রশাসন
- অসহায় স্বীকারোক্তি, গোপনে পরাজয় মেনে নিল ইসরায়েল?
- আমিরাত কারো সহজ শিকার নয়, প্রেসিডেন্ট আল নাহিয়ানের হুঁশিয়ারি
- যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানে সাইবার হামলার দাবি ইরানি হ্যাকারদের, বিশ্বজুড়ে পরিষেবা ব্যাহত
- ইরানে সরকার পতন হচ্ছে না, ‘হার মেনে নিয়েছে’ ইসরায়েল: রয়টার্সের প্রতিবেদন
- দুবাইয়ের বাসিন্দাদের খোলা জায়গা ও দরজা-জানালা থেকে দূরে থাকার নির্দেশ
- খণ্ডিতভাবে ডেপুটি স্পিকার চাচ্ছি না, আমরা চাই প্যাকেজ: জামায়াত আমির
- ভালো রাজনৈতিক সংস্কৃতির চর্চা সংসদ থেকে শুরু করতে চাই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- জুনে চালু হতে পারে ই-হেলথ কার্ড: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
- নাহিদ রানাকে প্রশংসায় ভাসালেন পাকিস্তানের কোচ
- মানবাধিকার পরিস্থিতির সূচক উন্নতির দিকে: আইনমন্ত্রী
- বর্তমান সরকার সবার, কারও প্রতিপক্ষ নয়: প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী
- সংসদের অধিবেশন কক্ষে কালিমা তাইয়্যেবা লেখা আরবি ক্যালিগ্রাফি স্থাপন
- যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫৮ হাজার মেট্রিক টন গম নিয়ে মোংলা বন্দরে জাহাজ
- তিন কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার
- ইসরায়েল থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করলো স্পেন
- বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ও অধিকার সবার আগে : ডিএসসিসি প্রশাসক
সংশপ্তক অকুতোভয় বীরের প্রতিচ্ছবি
রুবেল হোসাইন, জাবি
প্রিন্ট ভার্সন
এই বিভাগের আরও খবর
সর্বশেষ খবর
ইরানে সরকার পতন হচ্ছে না, ‘হার মেনে নিয়েছে’ ইসরায়েল: রয়টার্সের প্রতিবেদন
১১ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম
যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানে সাইবার হামলার দাবি ইরানি হ্যাকারদের, বিশ্বজুড়ে পরিষেবা ব্যাহত
১১ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম