সবুজে মোড়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের নীরবতা ভেঙে যখন শহীদ শামসুজ্জোহা হলের পূর্বদিকে তাকাই, হঠাৎই চোখে পড়ে লাল ইটের এক সুউচ্চ স্তম্ভ। আকাশ ছুঁতে চাওয়া অথচ মাটির গভীরে গেঁথে থাকা এক যন্ত্রণার স্মারক। দূর থেকে সেটি নিছক স্থাপত্য মনে হলেও কাছে গেলেই দেয়াল ছুঁয়ে যেন উঠে আসে চাপা আর্তনাদ, অদৃশ্য রক্তের গন্ধ আর ইতিহাসের ভারী নিশ্বাস। ৪২ ফুট উঁচু এই স্তম্ভটি দাঁড়িয়ে আছে একটি কূপের ওপর। ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে। ১৯৭১-এর অন্ধকার সময়ে যেখানে মানবতা হয়েছিল ক্ষতবিক্ষত, আর মাটির নিচে চাপা পড়েছিল অসংখ্য স্বপ্ন। মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাসে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী শহীদ শামসুজ্জোহা হলকে ক্যান্টনমেন্টে রূপান্তর করে। শিক্ষার স্থান বদলে যায় নির্যাতনকেন্দ্রে। সেই নির্যাতনের শেষ ঠিকানা ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের পেছনের বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে অবস্থিত কূপটি। যেখানে ফেলে দেওয়া হতো নির্যাতিতদের, কেউ মৃত, কেউ জীবন্ত। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর একে একে উন্মোচিত হতে থাকে গণহত্যার চিহ্ন। কেউ চিনে ফেলেন হারিয়ে যাওয়া ভাইয়ের ঘড়ি, কারও হাতে পড়ে থাকা ছেঁড়া চিঠি। মাটি খুঁড়লে বেরিয়ে আসে মাথার খুলি, হাত-পা ও দেহের নানা অংশ। যা আজও সংরক্ষিত আছে শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালায়। মুক্তিযুদ্ধকালীন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও সাংবাদিক আহমদ সফিউদ্দিন যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে বধ্যভূমি এলাকায় অনুসন্ধান চালান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জোহা হলের কয়েকটি কক্ষকে টর্চার সেলে রূপান্তর করা হয়। তথাকথিত আদালতে চলত বিচারের নাটক, আর পরে মৃত্যু। প্রথমদিকে মরদেহ ফেলা হতো পাশের ইটভাটায়। দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকলে শুরু হয় গণকবর দেওয়া। তিনি জানান, জোহা হলের পেছনের এলাকায় ৩০টির বেশি গণকবরের সন্ধান পাওয়া গেছে। সেখানে মিলেছে কানের দুল, ঘড়ি, গলার হার। যা প্রমাণ করে, নারী-পুরুষ কেউই রেহাই পাননি। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী শরীফুল ইসলাম তানবীর বলেন, ‘এই বধ্যভূমি শুধু একটি স্থাপনা নয়, এটি আমাদের ইতিহাসের রক্তাক্ত দলিল। এখানে দাঁড়ালে বুঝতে পারি স্বাধীনতা কতটা ত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া।’ বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘আমরা ইতিহাস বইয়ে গণহত্যার কথা পড়ি, কিন্তু এই বধ্যভূমির সামনে দাঁড়ালে বিষয়টি বাস্তব হয়ে ওঠে।’ ১৯৯৮ সালে তৎকালীন উপাচার্য ড. আবদুল খালেক এই বধ্যভূমিকে স্থায়ী স্মৃতিরূপ দিতে উদ্যোগ নেন। ১৯৯৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের দিনে উপাচার্য প্রফেসর এম সাইদুর রহমান খান নির্মাণ করেন স্মৃতিস্তম্ভটি। পরে ২০০২ সালে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. রেদোয়ান আহমেদ এর সংস্কার ও উন্নয়ন করেন, যা বাস্তবায়ন করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
শিরোনাম
- বেসরকারি ডিপোর চার্জ বাড়ল ৮.৫ শতাংশ, ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা
- যুক্তরাজ্যে ১২ বিশ্ববিদ্যালয়ের গোপন কর্মকাণ্ড ঘিরে বিতর্ক চরমে
- সত্যিই কি ইসলামাবাদ যাচ্ছে ইরানি প্রতিনিধি দল?
- ‘স্বৈরাচারী সরকার গণবিচ্ছিন্ন হওয়ার সুদূর প্রসারী পরিণতি আজকের এই জ্বালানি সংকট’
- সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল নোয়াখালী প্রবাসীর
- সংরক্ষিত নারী আসনে ১১ দলীয় জোটের চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা
- পাকিস্তানে ৪৮ ঘণ্টায় ছয়টি মার্কিন বিমানের অবতরণ
- প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করে দিয়েছি : প্রধানমন্ত্রী
- রাজধানীতে ক্যানসার হাসপাতালের উপপরিচালককে কুপিয়ে জখম
- তীব্র হচ্ছে গরম, তাপমাত্রা নিয়ে সতর্কবার্তা
- চার দিনের সফরে মালয়েশিয়ায় সেনাবাহিনী প্রধান
- নিউজিল্যান্ডকে উড়িয়ে সিরিজে ফিরল বাংলাদেশ
- বিদেশি বিমান সংস্থাগুলোর ফ্লাইট ‘ধীরে ধীরে চালুর’ ঘোষণা দিল কাতার
- বন্দরে ডিজেল খালাস করছে ২টি জাহাজ, বহির্নোঙরে আছে আরও ৩টি
- দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশ ও ইইউ’র পিসিএ স্বাক্ষর
- কর কর্মকর্তার বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার, কমলো বেতন
- ভাড়া যৌক্তিক হারে বাড়ানোর দাবি যাত্রী কল্যাণ সমিতির
- ২১ দেশে কাজ করছে বাংলাদেশের ২৪ বাণিজ্যিক উইং
- পরীক্ষার্থীদের ভয়মুক্ত থেকে হাসিমুখে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার আহ্বান
- এপ্রিলের ১৯ দিনে রেমিট্যান্স এলো প্রায় ২১৩ কোটি ডলার
রাবিতে লাল ইটের সুউচ্চ স্তম্ভ
ইতিহাসের রক্তাক্ত দলিল
জাহিদুল ইসলাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
প্রিন্ট ভার্সন
এই বিভাগের আরও খবর
সর্বশেষ খবর
যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বাসঘাতকতা করবে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে ইরানের প্রেসিডেন্ট
১২ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম
পাকিস্তানে ফের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান, বৈঠকের এজেন্ডা কী?
১৯ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম