দেশের আবাসন খাতকে দীর্ঘস্থায়ী মন্দা থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে সরকার আবারও বিশেষ বিনিয়োগ সুবিধা চালুর কথা ভাবছে। ধসের মুখে থাকা রিয়েল এস্টেট খাতে গতি ফেরাতে পুনরায় অপ্রদশিত অর্থ সাদা করার সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে স্থবির হয়ে পড়া আবাসন বাজারে নতুন করে বিনিয়োগ বাড়বে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত হতে পারে বলে জানা গেছে। যদিও সুবিধাটির চূড়ান্ত কাঠামো ও শর্ত এখনো নির্ধারণ হয়নি, তবে আবাসন খাতকে পুনরুজ্জীবিত করতেই সরকার এ উদ্যোগ বিবেচনা করছে। বর্তমান সময়ে উচ্চ নির্মাণ ব্যয়, ব্যাংক ঋণের সীমাবদ্ধতা ও ক্রেতা সংকটের কারণে আবাসন খাত গভীর চাপে রয়েছে। ফ্ল্যাট বিক্রি কমে যাওয়ায় ডেভেলপারদের পাশাপাশি নির্মাণসামগ্রী ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট শিল্প খাতও সংকটে পড়েছে। এমন বাস্তবতায় বিনিয়োগ বাড়াতে বিশেষ কর সুবিধা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) বাজেট প্রস্তাবে সরকারের কাছে আবাসন খাতে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ পুনর্বহালের অনুরোধ জানিয়েছে। তাদের মতে, কম করহারে এবং উৎস সম্পর্কে প্রশ্ন না করে অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দিলে বিপুল পরিমাণ অঘোষিত অর্থ আবাসন খাতে প্রবাহিত হবে। এতে বাজারে স্থবিরতা কাটবে এবং নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আসবে।
এর আগে ২০২০-২১ অর্থবছরে সরকার আবাসন খাতে বিশেষ সুবিধার আওতায় মাত্র ১০ শতাংশ কর দিয়ে অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করার সুযোগ দিয়েছিল। সে সময় সাধারণ করদাতাদের তুলনায় কম করহার থাকায় অনেক বিনিয়োগকারী আবাসন খাতে অর্থ বিনিয়োগে আগ্রহী হন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একই ধরনের সুবিধা পুনরায় চালু হলে আবাসন শিল্পে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
রিহ্যাবের সাবেক সিনিয়র ভাইস-প্রেসিডেন্ট লিয়াকত আলী ভূঁইয়া বলেন, অনেক প্রবাসী বা উত্তরাধিকারসূত্রে সম্পদ পাওয়া ব্যক্তি বিভিন্ন কারণে সময়মতো সম্পদ ঘোষণা করতে পারেন না। তাদের জন্য বৈধভাবে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। তিনি মনে করেন, দেশে বিনিয়োগের পথ সহজ হলে অর্থ পাচারও কমবে এবং অর্থ দেশের ভিতরেই উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহৃত হবে। অর্থনীতিবিদদের একটি অংশও মনে করেন, আবাসন খাতের সঙ্গে ব্যাংকিং, সিমেন্ট, রড, সিরামিক, কেবল, রংসহ অন্তত ২০০টির বেশি শিল্প খাত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। ফলে আবাসন খাত চাঙা হলে সামগ্রিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক গতি ফিরতে পারে।
সরকারের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে স্থবির বাজারে নতুন আস্থা ফিরবে বলে আশা করছেন উদ্যোক্তারা। তাদের মতে, দীর্ঘদিনের সংকট কাটিয়ে আবাসন খাত আবারও অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।