ইউক্রেনের চেরনোবিল পারমাণবিক চুল্লির ওপর নির্মিত সুরক্ষামূলক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে কাঠামোটি আগের মতো তেজস্ক্রিয়তা আটকে রাখতে পারছে না বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষক সংস্থা আন্তর্জাতিক পারমাণবিক সংস্থা আইএইএ।
ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান–এর প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ফেব্রুয়ারি মাসে ড্রোন হামলায় চুল্লির সুরক্ষা আবরণে একটি ছিদ্র তৈরি হয়। এই আঘাতে কংক্রিট ও স্টিলের তৈরি প্রতিরক্ষা স্তর দুর্বল হয়ে পড়ে।
আইএইএর মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি জানান, সাম্প্রতিক পরিদর্শনে তারা নিশ্চিত হয়েছেন যে সুরক্ষা কাঠামোটি তার ‘প্রাথমিক নিরাপত্তা কার্যকারিতা’—অর্থাৎ তেজস্ক্রিয়তা নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা—হারিয়েছে। তবে ভারবাহী কাঠামোর বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি বলেও জানান তিনি। গ্রোসি আরও বলেন, আপাতত অস্থায়ী মেরামত করা হয়েছে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
ইউক্রেন জানিয়েছিল, ১৪ ফেব্রুয়ারি বিস্ফোরক বহনকারী একটি ড্রোন চুল্লিতে আঘাত হানে, আগুন ধরে যায় এবং সুরক্ষা আবরণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিয়েভের দাবি—এ হামলার পেছনে রাশিয়া ছিল। তবে মস্কো এ অভিযোগ অস্বীকার করে।
রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের শুরুতে, অর্থাৎ ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে, রুশ বাহিনী এক মাসের বেশি সময় চেরনোবিল ও পার্শ্ববর্তী এলাকা দখল করে রেখেছিল।
১৯৮৬ সালের ভয়াবহ চেরনোবিল দুর্ঘটনার পর তেজস্ক্রিয় বিকিরণ ইউরোপজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণে চুল্লির ছাদ ধসে গেলে তেজস্ক্রিয়তা ঠেকাতে এর ওপর স্টিল–কংক্রিটের প্রতিরক্ষা স্তর বসানো হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক ক্ষতির ঘটনা পুরোনো আতঙ্ক ফের উসকে দিয়েছে।
দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা এখনো বিতর্কের বিষয়। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হিসাব অনুযায়ী বিস্ফোরণে তাৎক্ষণিকভাবে ৩১ জন মারা যান। জাতিসংঘের হিসাব বলছে, সরাসরি বিকিরণে মৃত্যু হয়েছিল ৫০ জনের। ২০০৫ সালে জাতিসংঘ অনুমান করে, দীর্ঘমেয়াদে বিকিরণজনিত কারণে আরও প্রায় চার হাজার মানুষের মৃত্যু হতে পারে।
সোর্স: দ্য গার্ডিয়ান
বিডি প্রতিদিন/আশিক