হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থী গণমাধ্যম উদ্যোক্তা জিমি লাইকে সোমবার দুটি বিদেশি যোগসাজশের অভিযোগ এবং একটি রাষ্ট্রদ্রোহী প্রকাশনার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। চীন আরোপিত জাতীয় নিরাপত্তা আইনের আওতায় হওয়া এ মামলায় তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। বহুল আলোচিত এই মামলাটি পশ্চিমা দেশগুলোর তীব্র নিন্দার মধ্যে পড়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্স তাদের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।
খবরে বলা হয়, এই ঐতিহাসিক রায় আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক নজর কাড়ছে। ২০১৯ সালের গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভের পর হংকংয়ে অধিকার ও স্বাধীনতার ওপর দীর্ঘদিন ধরে চলা দমন-পীড়নের প্রেক্ষাপটে শহরটির বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ওই বিক্ষোভকে বেইজিং নিজেদের শাসনের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখেছিল।
জিমি লাইয়ের সমর্থকদের কাছে তিনি একজন স্বাধীনতার সংগ্রামী হলেও, বেইজিংয়ের দৃষ্টিতে তিনি ওই বিক্ষোভের নেপথ্য কারিগর এবং হংকং ও চীনের মূল ভূখণ্ডের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার পক্ষে তদবিরকারী এক ষড়যন্ত্রকারী। চীনা কর্তৃপক্ষ অবশ্য হংকংয়ে আইনের শাসন ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
রায় ঘোষণার সময় বিচারক এসথার তোহ বলেন, ‘আমাদের মনে কোনো সন্দেহ নেই যে জিমি লাই (চীনা কমিউনিস্ট পার্টির) সরকারের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার অভিপ্রায় থেকে কখনোই সরে আসেননি। তিনি তার জীবনের বড় একটি সময় জুড়ে চীনের প্রতি “ক্ষোভ ও বিদ্বেষ পোষণ” করে এসেছেন।’
এ সময় ফ্যাকাশে সবুজ সোয়েটার ও ধূসর জ্যাকেট পরা লাই আদালতকক্ষে হাত ভাঁজ করে বসে ছিলেন।
এই মামলায় বিচারক প্যানেলের অন্য দুই সদস্য ছিলেন অ্যালেক্স লি এবং সুসানা ডি’আলমাদা রেমেডিওস।
সূত্র: রয়টার্স
বিডি প্রতিদিন/নাজিম