অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডি সৈকতে ইহুদিদের হানুক্কা উৎসবে ভয়াবহ বন্দুক হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহতের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ জানিয়েছে, হামলায় জড়িত দুই ব্যক্তি সম্পর্কে বাবা-ছেলে।
পুলিশ আরও জানায়, হামলাকারীরা হলেন ৫০ বছর বয়সি সাজিদ আকরাম ও তার ২৪ বছর বয়সি ছেলে নাভিদ আকরাম। সাজিদ ঘটনাস্থলে পুলিশের গুলিতে নিহত হন। আর নাভিদকে আহত অবস্থায় গ্রেফতার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ান মিডিয়া জানিয়েছে, বাবা-ছেলে মাছ ধরার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। পুলিশ বলছে, তারা হামলায় 'লং আর্মস' ব্যবহার করে ভিড়ের মধ্যে গুলি চালিয়েছিল। সাজিদ আকরামের কাছে ছয়টি লাইসেন্সপ্রাপ্ত আগ্নেয়াস্ত্র ছিল, যা হামলায় ব্যবহৃত হতে পারে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে দ্য সিডনি মর্নিং হেরাল্ড জানিয়েছে, সাজিদ আকরাম ছিলেন একজন ফলের দোকানের মালিক। তিনি ১৯৯৮ সালে ছাত্র ভিসায় অস্ট্রেলিয়ায় আসেন, ২০০১ সালে পার্টনার ভিসায় রূপান্তরিত হয় এবং পরে রেসিডেন্ট রিটার্ন ভিসায় বসবাস করছিলেন। তবে, অস্ট্রেলিয়ায় আসার আগে তার বাসস্থান সম্পর্কে তেমন কিছু এখনও জানা যায়নি।
নাভিদের মা ভেরেনা বলেছেন, তার ছেলে বাবার সঙ্গে জার্ভিস সৈকতে ছিলেন। হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে, রবিবার সকালে শেষবার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। তিনি বলেন, ''নাভিদ রবিবার আমাকে ফোন করে বলেছিল, 'মা, আমি এইমাত্র সাঁতার কাটলাম, স্কুবা ডাইভিং করলাম। আমরা এখন খাবার খেতে যাচ্ছি। আজ সকালে আমরা ঘরে থাকব কারণ খুব গরম'।"
ভেরেনা বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন না, নাভিদ কোনো সহিংসতা বা চরমপন্থার সঙ্গে যুক্ত। তিনি বলেন, 'তার কোনো আগ্নেয়াস্ত্র নেই। সে বাইরে যায় না, বন্ধুদের সঙ্গে মেশে না, মদপান বা ধূমপানও করে না। সে কাজ করে, বাড়ি আসে, ব্যায়াম করে, এসব নিয়েই দিন কাটায়।
দ্য সিডনি মর্নিং হেরাল্ডের তথ্য অনুযায়ী, নাভিদ আকরাম ইটভাটা শ্রমিক ছিলেন। তার নিয়োগকর্তা দেউলিয়া হয়ে যাওয়ায় গত দুই মাস আগে চাকরি হারিয়েছেন। সে বর্তমানে চাকরির খোঁজ করছিল।
পরিবারটি বর্তমানে নিউ সাউথ ওয়েলসে ২০২৪ সালে কেনা একটি তিন বেডরুমের বাড়িতে বসবাস করছে। আগে তারা ক্যাব্রামাট্টায় থাকত। নাভিদ সেখানে তার মা-বাবা, ২২ বছর বয়সি বোন ও ২০ বছর বয়সি ভাইয়ের সঙ্গে থাকত। তার মা একজন গৃহিণী।
সূত্র: এনডিটিভি
বিডি-প্রতিদিন/এমই