অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডি বিচে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় জড়িত ভারতের সাজিদ আকরাম। এই ঘটনায় বিশ্বজুড়ে তোলপাড় হচ্ছে। তবে ভারত জানিয়েছে, দেশে থাকাকালীন কোনও অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না ঘাতক সাজিদ। ১৯৯৮ সালে ভারত ছেড়ে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি দেন তিনি। তবে দেশ ছাড়ার পর থেকে ভারতে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ প্রায় ছিলই না। গত ২৭ বছরে মাত্র ছয় বার ভারতে এসেছিলেন সাজিদ! এমনই জানিয়েছে তেলেঙ্গানা পুলিশ।
গত রবিবার দুপুরে বন্ডি সৈকতে সিডনির ইহুদিদের হানুক্কাহ উৎসবে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঢুকে পড়েছিলেন সাজিদ। সঙ্গে ছিলেন তার পুত্র নবিদ। এলোপাথাড়ি গুলি চালান তারা। মাত্র ১০ মিনিটের সেই হামলায় ১৫ জনের মৃত্যু হয়। পুলিশের গুলিতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় সাজিদের। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তার পুত্র। ঘটনার পর থেকেই দু’জনের পরিচয় নিয়ে নানা মহলে জল্পনা শুরু হয়। প্রথমে জানা যায়, তারা পাকিস্তানের নাগরিক। তবে মঙ্গলবার তদন্তকারীরা জানতে পারেন, সিডনিতে যাওয়ার আগে গত মাসে ফিলিপাইনে ভ্রমণে গিয়েছিলেন সাজিদ ও তার ছেলে। তাও আবার ভারতীয় পাসপোর্টে! এর পরেই শুরু হয় জল্পনা, তবে কি ভারতীয় নাগরিক ছিলেন তারা? এ ব্যাপারে সিলমোহর দেয় তেলেঙ্গানা পুলিশ। তারা জানায়, সাজিদের জন্ম, পড়াশোনা সবই ভারতে। তবে চাকরির সন্ধানে ১৯৯৮ সালে ভারত ছেড়ে পাড়ি দেন অস্ট্রেলিয়া।
তেলেঙ্গানা পুলিশের ডিজি জানিয়েছেন, সাজিদের পরিবার তেলেঙ্গানার হায়দরাবাদে থাকে। তবে অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার পর আর পাকাপাকি ভাবে ভারতে ফিরে আসার কোনও ইচ্ছা ছিল না সাজিদের। অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ী ভাবে বসবাস শুরু করেন তিনি। ভারতে তার আত্মীয়দের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডিজি বলেন, গত ২৭ বছর ধরে হায়দরাবাদে পরিবারের সঙ্গে সাজিদের যোগাযোগ সীমিত ছিল। অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার পর মাত্র ছয় বার ভারতে এসেছিলেন তিনি। সাজিদের ভারতে আসার মূল কারণই ছিল সম্পত্তি সংক্রান্ত। এমনকি তার বাবার মৃত্যুর পরও বাড়ি আসেননি তিনি।
তেলেঙ্গানার ডিজি জানিয়েছেন, সাজিদের উগ্র মানসিকতা সম্পর্কে হায়দরাবাদে তার পরিবারের কোনও ধারণা ছিল না। কেন তিনি সন্ত্রাসবাদী কাজে লিপ্ত হলেন, তা সম্পর্কে পরিবার ধাঁধায়।
গত তিন দশক ধরে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করা সত্ত্বেও ভারতীয় নাগরিকত্ব ছাড়েননি সাজিদ। অস্ট্রেলিয়ায় থাকাকালীন ভেনেরা গ্রোসো নামে ইতালির এক মহিলাকে বিয়ে করেন তিনি। স্ত্রী ধর্মে খ্রিস্টান হওয়ায় সেই থেকেই সাজিদের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করে দেয় তার পরিবার। তবে ২০২২ সালে ব্যক্তিগত কাজে ভারতে এক বার এসেছিলেন সাজিদ। সেই শেষ। আর তিনি ভারতে আসেননি।
তেলঙ্গানা পুলিশ এ-ও জানিয়েছে, এই ঘটনার তদন্তে প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় সংস্থা বা তদন্তকারীদের সঙ্গে সহযোগিতা করতেও প্রস্তুত। পাশাপাশি, ভুয়া খবর বা তথ্যের ফাঁদে সাধারণ মানুষকে না-পড়ার অনুরোধ করেছে পুলিশ। কোনও তথ্য যাচাই না-করে তা ছড়ানো থেকে বিরত থাকার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
বিডি প্রতিদিন/নাজমুল