যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিষেধাজ্ঞা দেওয়া সব তেল ট্যাঙ্কারের ভেনেজুয়েলায় প্রবেশ ও ত্যাগ ‘আটকানোর’ আদেশ দিয়েছেন। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে ওয়াশিংটনের সর্বশেষ পদক্ষেপ এটি। এদিকে, লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন এলাকায় তথাকথিত মাদকবাহী নৌকায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার আসল কারণ হলো ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া- এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুজি ওয়াইলস।
মঙ্গলবার ভ্যানিটি ফেয়ার ম্যাগাজিনে প্রকাশিত মন্তব্যে ওয়াইলস কার্যত ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষিত অবস্থানের সঙ্গে ভিন্ন সুরে কথা বলেছেন। ট্রাম্প প্রশাসন যেখানে এসব হামলাকে মাদকবিরোধী অভিযান বলে দাবি করছে, সেখানে ওয়াইলসের বক্তব্যে উঠে এসেছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত। ভ্যানিটি ফেয়ারের প্রতিবেদনে ওয়াইলসকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, ‘ট্রাম্প চান নৌকাগুলোতে হামলা চলতে থাকুক, যতক্ষণ না মাদুরো আত্মসমর্পণ করেন। এ বিষয়ে আমার চেয়ে অনেক বেশি জ্ঞানী মানুষও বলছেন— এতে তিনি (মাদুরো) ভেঙে পড়বেন।’ ভ্যানিটি ফেয়ার মঙ্গলবার ওয়াইলসকে নিয়ে একটি দীর্ঘ প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
ওয়াইলসের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মারফি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, ‘এটা মাদকচক্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নয়, এটা ক্ষমতাচ্যুত করার চেষ্টা। যেভাবেই দেখা হোক, এটি সম্পূর্ণ অবৈধ ও অর্থহীন।’
এদিকে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আমাদের সম্পদ চুরি করা এবং সন্ত্রাসবাদ, মাদক পাচার ও মানবপাচারসহ বহু কারণে ভেনেজুয়েলার শাসকগোষ্ঠীকে একটি বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাই আমি ভেনেজুয়েলায় যাওয়া ও সেখান থেকে বের হওয়া সব নিষেধাজ্ঞাভুক্ত তেল ট্যাংকারের ওপর সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক অবরোধের নির্দেশ দিচ্ছি।’
ভেনেজুয়েলার সরকার এক বিবৃতিতে ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে ‘বিকৃত ও অশোভন হুমকি’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। ট্রাম্পের নির্দেশনা বাস্তবে কীভাবে কার্যকর করা হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ট্রাম্প আগের সপ্তাহে যেমন করেছিলেন, তেমনি এবারও কি কোস্ট গার্ডকে ব্যবহার করে জাহাজ আটকানো হবে, সে বিষয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ওই অঞ্চলে হাজার হাজার সেনা এবং একটি বিমানবাহী রণতরীসহ প্রায় এক ডজন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে। ট্রাম্পের ঘোষণার পর এশীয় লেনদেনে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের ফিউচার দাম ১ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৫৫.৯৬ ডলারে ওঠে। তবে মঙ্গলবার তেলের দাম নেমে এসে ব্যারেল প্রতি ৫৫.২৭ ডলারে বন্ধ হয়, যা ফেব্রুয়ারি ২০২১ এর পর সর্বনিম্ন। সূত্র: আল জাজিরা, রয়টার্স
বিডি প্রতিদিন/এএম