রাশিয়ার জব্দ করা সম্পদ ব্যবহার না করার বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (ইইউ) কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পোলিশ প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্কের দাবি, ওয়াশিংটন স্পষ্ট করে জানিয়েছে রাশিয়ার এই অর্থ স্পর্শ (ব্যবহার) করলে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের শান্তি আলোচনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
২০২২ সালে ইউক্রেন সংঘাত শুরুর পর থেকে পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ জব্দ করে রেখেছে। যার মধ্যে সিংহভাগ অর্থাৎ প্রায় ২৪৬ বিলিয়ন ডলারই রয়েছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। সম্প্রতি ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেনের পক্ষ থেকে এই অর্থ ইউক্রেনকে ‘ক্ষতিপূরণ ঋণ’ হিসেবে দেওয়ার প্রস্তাব আসার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
বার্লিনে ইউক্রেনীয় ও মার্কিন প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি বৈঠকের পর ডোনাল্ড টাস্ক জানান, রাশিয়ার এই জব্দ করা সম্পদ নিয়ে ওয়াশিংটন এবং ব্রাসেলসের মধ্যে মতপার্থক্য এখন অনেক বেশি স্পষ্ট। মার্কিন প্রশাসনের শঙ্কা হলো, ইইউ যদি এককভাবে এই অর্থ বাজেয়াপ্ত করে তবে মস্কো শান্তি আলোচনার টেবিল থেকে সরে আসতে পারে অথবা কঠোর অবস্থান নিতে পারে।
এদিকে রাশিয়ার জব্দকৃত সম্পদের বড় অংশ বেলজিয়ামের ইউরোক্লিয়ার ডিপোজিটরিতে থাকায় দেশটি আইনি জটিলতা ও সম্ভাব্য রুশ মামলার বিষয়ে বেশ উদ্বিগ্ন। অন্যদিকে হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়ার মতো দেশগুলোর বিরোধিতা সত্ত্বেও ইইউ নেতৃত্ব জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করে রুশ সম্পদের ওপর স্থগিতাদেশের মেয়াদ আরও বাড়িয়েছে।
রাশিয়া এই পুরো প্রক্রিয়াকে সরাসরি চুরি হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ পশ্চিমা দেশগুলোর এই প্রবণতাকে তীব্র কটাক্ষ করে বলেছেন, অন্যের সম্পদ লুট করা তাদের মজ্জাগত স্বভাবে পরিণত হয়েছে। ইতিমধ্যে রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের ২৩০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ আদায়ের লক্ষ্যে ইউরোক্লিয়ারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
সূত্র: আরটি
বিডি প্রতিদিন/নাজমুল