লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগুয়েজ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতার ইঙ্গিত দিয়েছেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রে আটক হওয়ার পর সুপ্রিম কোর্টের আদেশে অন্তর্বর্তী প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি এ বার্তা দেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক হুমকির প্রেক্ষাপটেই এই অবস্থান সামনে এলো।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিজের ভেরিফায়েড ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে দেলসি রদ্রিগুয়েজ লেখেন, ভেনেজুয়েলা শান্তি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাঁর ভাষায়, বাহ্যিক হুমকি ছাড়া পারস্পরিক সম্মান ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পরিবেশে বসবাস করাই দেশটির লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, ভেনেজুয়েলা এবং এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশের সঙ্গে সার্বভৌম সমতা ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতির ভিত্তিতে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যেই সহযোগিতামূলক সম্পর্ক এগিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি উদ্দেশ করে দেলসি বলেন, ভেনেজুয়েলার জনগণ এবং সমগ্র লাতিন আমেরিকা যুদ্ধ নয় শান্তি ও সংলাপ চায়। তাঁর মতে, ভেনেজুয়েলার শান্তি, উন্নয়ন ও সার্বভৌম ভবিষ্যতের অধিকার রয়েছে।
এর আগে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মাদুরো গ্রেপ্তারের পর দেশটির প্রশাসনের বাকি সদস্যরা সহযোগিতা না করলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে। এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তিনি কলম্বিয়া ও মেক্সিকোর ক্ষেত্রেও সামরিক বিকল্পের ইঙ্গিত দেন।
বর্তমানে নিকোলাস মাদুরো নিউইয়র্কের একটি ডিটেনশন সেন্টারে আটক আছেন এবং মাদক সংক্রান্ত অভিযোগে তাঁকে আদালতে তোলা হবে। তেলসমৃদ্ধ ভেনেজুয়েলার এই রাজনৈতিক পরিবর্তন দেশটির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
বিডি প্রতিদিন/আশিক