হাজারো মানুষের বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ইসরায়েল। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার সরকারের বিরুদ্ধে বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে দেশজুড়ে। শনিবার সন্ধ্যায় তেলআবিবের হাবিমা স্কয়ারসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রাস্তায় নেমে আসে হাজার হাজার মানুষ।
বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবি ছিল, গাজায় হামাসের হাতে নিহত শেষ জিম্মি রান গভিলির মরদেহ ফিরিয়ে আনা এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার ঘটনায় একটি স্বাধীন রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠন করা। এক প্রতিবেদনে টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, বর্তমান সরকারের বিচার বিভাগীয় সংস্কার পরিকল্পনারও তীব্র বিরোধিতা করছেন বিক্ষোভকারীরা।
একটি বিশেষ সমাবেশের আয়োজন করা হয় নিহত জিম্মি রান গভিলির নিজ শহর মেইতারে, যেখানে রানের বাবা-মা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করেন। তারা অভিযোগ করেন, ট্রাম্প প্রশাসন জিম্মি মুক্তির প্রথম ধাপ পূর্ণাঙ্গভাবে সফল হওয়ার আগেই গাজা পুনর্গঠনের জন্য ‘বোর্ড অব পিস’ গঠন ও দ্বিতীয় ধাপের কাজ শুরু করতে তাড়াহুড়ো করছে। বিক্ষোভকারীরা ঐক্যবদ্ধভাবে এই বার্তা দিয়েছেন, যত দিন না শেষ জিম্মি ফিরে আসছেন এবং সরকারের ব্যর্থতার স্বচ্ছ বিচার হচ্ছে, তত দিন তারা রাজপথ ছাড়বে না।
এদিকে, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার পুনর্গঠন ও ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা তদারকির জন্য গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’ এর বিরোধীতা করে ক্ষমতাসীন জোটের অংশীদারদের নিয়ে একটি জরুরি সভা ডেকেছেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। রবিবার (১৮ জানুয়ারি) নির্বাহী বোর্ডের গঠন পরীক্ষা করার জন্য বৈঠকে ডাকা হয়েছে বলে এএফপির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির মুখপাত্র জানান, হোয়াইট হাউসের গঠন করা গাজা উপদেষ্টা প্যানেলের বিরোধিতার পর করণীয় ঠিক করতে ক্ষমতাসীন জোটের অংশীদারদের একটি সভা ডেকেছেন। সূত্র: এএফপি, টাইমস অব ইসরায়েল
বিডি প্রতিদিন/এএম