জাপানের নিগাতা প্রদেশে অবস্থিত কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি চুল্লি পুনরায় চালু করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আবার বন্ধ করে দিতে হয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি (টেপকো) স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) জানায়, পুনরায় চালুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, সমস্যাটি কবে সমাধান হবে—তা এখনো নিশ্চিত নয়।
দীর্ঘ ১৪ বছর বন্ধ থাকার পর কেন্দ্রটির ৬ নম্বর চুল্লি বুধবার (২১ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টা ২ মিনিটে চালু করা হয়। তবে চালু করার প্রক্রিয়ার সময় হঠাৎ মনিটরিং ব্যবস্থায় সতর্ক সংকেত দেখা দেওয়ায় নিরাপত্তা বিধি মেনে কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। টেপকোর মুখপাত্র তাকাশি কোবায়াশি জানান, বর্তমানে চুল্লিটি স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে এবং কোনো ধরনের তেজস্ক্রিয়তা ছড়ানোর ঘটনা ঘটেনি।
তিনি আরও বলেন, ‘এটি এক-দুইদিনের মধ্যে সমাধান হবে বলে আমরা মনে করছি না। কত সময় লাগবে, তা এখন বলা যাচ্ছে না।’
তিনি বলেন, আপাতত কী কারণে এই সমস্যা হয়েছে, সেটি শনাক্ত করাতেই পুরোপুরি মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে।
টেপকোর মুখপাত্র তাকাশি কোবায়াশি বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, সমস্যার সমাধানে সময় লাগবে বুঝতে পেরে পরিকল্পিতভাবে রিঅ্যাক্টরের কন্ট্রোল রডগুলো আবার ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, রিঅ্যাক্টরটি এখন স্থিতিশীল অবস্থায় আছে এবং কেন্দ্রের বাইরে কোনো তেজস্ক্রিয় প্রভাব পড়েনি। কন্ট্রোল রড হলো এমন একটি যন্ত্র, যা রিঅ্যাক্টরের ভেতরে পারমাণবিক বিক্রিয়ার গতি নিয়ন্ত্রণ করে।
রড সামান্য তুলে নিলে বিক্রিয়া বাড়ে, আর ভেতরে ঢুকিয়ে দিলে বিক্রিয়া ধীর হয়ে যায় বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। সম্ভাব্য উৎপাদন ক্ষমতার দিক থেকে কাশিওয়াজাকি–কারিওয়া পারমাণবিক কেন্দ্রটি বিশ্বের সবচেয়ে বড়। তবে বর্তমানে সাতটি রিঅ্যাক্টরের মধ্যে মাত্র একটি চালু করা হয়েছিল। ২০১১ সালে ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামির পর ফুকুশিমা পারমাণবিক কেন্দ্রে তিনটি রিঅ্যাক্টর গলে যাওয়ার ঘটনায় জাপান সব পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করে দেয়। তবে জাপান এখন আবার পারমাণবিক শক্তির দিকে ফিরতে চায়।
এর লক্ষ্য হলো জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো, ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিরপেক্ষতা অর্জন করা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বাড়তে থাকা বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ করা।
কাশিওয়াজাকি–কারিওয়া কেন্দ্রটি ২০১১ সালের পর টেপকো পরিচালিত কোনো পারমাণবিক ইউনিটের প্রথম পুনরায় চালুর উদ্যোগ। টেপকোই ফুকুশিমা দাইইচি কেন্দ্র পরিচালনা করত, যা বর্তমানে ধাপে ধাপে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। তবে নিগাতা প্রদেশে এই কেন্দ্র পুনরায় চালু করা নিয়ে জনমত বিভক্ত। গত সেপ্টেম্বরে করা এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৬০ শতাংশ বাসিন্দা কেন্দ্রটি চালুর বিপক্ষে, আর ৩৭ শতাংশ এর পক্ষে।
এ মাসের শুরুতে পুনরায় চালুর বিরোধিতা করা সাতটি সংগঠন প্রায় ৪০ হাজার মানুষের স্বাক্ষরসংবলিত একটি আবেদন টেপকো ও জাপানের পারমাণবিক নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে জমা দেয়। আবেদনে বলা হয়, বিদ্যুৎকেন্দ্রটি একটি সক্রিয় ভূমিকম্পপ্রবণ ফল্ট লাইনের ওপর অবস্থিত এবং ২০০৭ সালেও এটি একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।
বিডি প্রতিদিন/নাজিম