উগান্ডায় বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর দুই হাজার বিরোধী সমর্থককে আটক এবং ৩০ জনকে হত্যা করেছে কর্তৃপক্ষ- এমনটি জানিয়েছেন দেশটির সামরিক বাহিনীর প্রধান। তিনি আরও জানিয়েছেন, বিরোধী সমর্থককে ধরতে অভিযান চালছে এখনো। ওই নির্বাচনে ইয়োয়েরি মুসেভেনি সপ্তম মেয়াদে জয়ী হয়েছেন।
৮১ বছর বয়সী মুসেভেনি প্রায় চার দশক ধরে পূর্ব আফ্রিকার দেশটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। গত ১৫ জানুয়ারির ভোট ইন্টারনেট বন্ধ রেখে অনুষ্ঠিত হয়।নির্বাচনে বিরোধী ন্যাশনাল ইউনিটি প্ল্যাটফর্ম (এনইউপি) দলের নেতা ববি ওয়াইনকে বড় ব্যবধানে পরাজিত ঘোষণা করা হয়। সাবেক সংগীতশিল্পী ববি ওয়াইন ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে ব্যালট বাক্স ভরাসহ ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তোলে এবং আত্মগোপনে চলে যান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একাধিক পোস্টে সামরিক বাহিনীর প্রধান মুুহোজি কাইনেরুগাবা—যিনি মুসেভেনির ছেলে—এনইউপি সমর্থকদের গ্রেপ্তার ও হত্যার বিবরণ দেন। তিনি তাদের ‘দুষ্কৃতকারী’ ও ‘সন্ত্রাসী’ বলে অভিহিত করেন। তিনি এক্সে লেখেন, ‘এ পর্যন্ত আমরা ৩০ জন এনইউপি সন্ত্রাসীকে হত্যা করেছি।
তবে মৃত্যুর পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেননি। আরেকটি পোস্টে তিনি বলেন, ‘এনইউপি সন্ত্রাসী নেতাদের বেশিরভাগই আত্মগোপনে রয়েছে। আমরা সবাইকে ধরব।’ সরকার নির্বাচনের সময় সহিংসতার জন্য ওয়াইনের সমর্থকদের দায়ী করেছে। এদিকে, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী।
দেশটির নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মুসেভেনির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী এবং জনপ্রিয় পপসংগীতশিল্পী থেকে রাজনীতিক বনে যাওয়া ববি ওয়াইন পেয়েছেন ২৪ শতাংশ ভোট। তবে ববি ওয়াইন এই ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন এবং তার সমর্থকদের রাজপথে নামার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, সেনাবাহিনী তার বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে এবং গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি বর্তমানে আত্মগোপনে আছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ওয়াইন জানান, তার বাড়ির বিদ্যুৎ ও সিসিটিভি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে এবং তার পরিবারকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে। যদিও রয়টার্স স্বতন্ত্রভাবে তার এই দাবির সত্যতা যাচাই করতে পারেনি। সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স
বিডি প্রতিদিন/এএম