গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ঘনীভূত উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য আক্রমণ প্রতিহত করতে ডেনমার্ক তাদের সেনাবাহিনীকে গোলাবারুদসহ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছিল বলে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।
ডেনমার্কের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম ডিআরের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত সপ্তাহে ড্যানিশ সামরিক বাহিনীকে এই উচ্চ সতর্কতায় রাখা হয় এবং প্রয়োজনে গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুকে তাজা বুলেট ব্যবহারের জন্য সেনাদের প্রস্তুত থাকতে বলা হয়। মূলত উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলের এই দ্বীপটি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনড় অবস্থান এবং সামরিক শক্তির প্রচ্ছন্ন হুমকির প্রেক্ষিতেই ডেনমার্ক এই চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়।
প্রতিবেদনের তথ্যানুসারে, ডেনমার্কের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই সম্ভাব্য হামলা প্রতিহত করার বিষয়ে ব্যাপক ঐক্য পরিলক্ষিত হয়েছে। কেবল ক্ষমতাসীন জোট নয় বরং প্রধান বিরোধী দলগুলোও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সামরিক প্রতিরোধের পক্ষে জোরালো সমর্থন জানায়। কৌশলগত গুরুত্ব, খনিজ সম্পদ এবং এই অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলা করতেই ট্রাম্প দীর্ঘ দিন ধরে গ্রিনল্যান্ড দখলের ইচ্ছা পোষণ করে আসছিলেন। তবে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড কর্তৃপক্ষ শুরু থেকেই দ্বীপটি বিক্রির যেকোনো প্রস্তাব কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করে ডেনিশ সার্বভৌমত্বের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করে আসছিল।
অবশেষে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের এক বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের মধ্যে আলোচনার পর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি ঘটে। বুধবারের ওই বৈঠকের পর ট্রাম্প তার বলপ্রয়োগের হুমকি থেকে সরে আসেন এবং জানান যে গ্রিনল্যান্ড ও সুমেরু অঞ্চল নিয়ে একটি সম্ভাব্য চুক্তির রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। একই সাথে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে বিরোধিতাকারী ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের হুমকিও প্রত্যাহার করে নেন তিনি।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড
বিডি প্রতিদিন/নাজমুল