সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের এক জমকালো অনুষ্ঠানে বিধ্বস্ত গাজা উপত্যকাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চাভিলাষী ‘নিউ গাজা’ পরিকল্পনা উন্মোচন করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নবগঠিত ‘বোর্ড অফ পিস’-এর স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এই মহাপরিকল্পনা তুলে ধরেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।
উপস্থাপিত স্লাইডে দেখা যায়, ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলজুড়ে সারিবদ্ধ আকাশচুম্বী ভবন এবং রাফাহ এলাকায় বিশাল সব আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলা হবে। পুরো গাজাকে আবাসিক, কৃষি এবং শিল্প; এই তিন ভাগে ভাগ করে পুনর্গঠন করার নকশা তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গাজার ভৌগোলিক অবস্থানের প্রশংসা করে বলেন, আবাসন ব্যবসায়ী হিসেবে তিনি শুরু থেকেই এর চমৎকার সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছেন এবং এই সমুদ্রতীরবর্তী জমিটি বিশ্বের অন্যতম সুন্দর সম্পদে পরিণত হবে।
এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার বিস্তারিত তুলে ধরে জ্যারেড কুশনার জানান, গাজায় গত দুই বছরের যুদ্ধে প্রায় ৬ কোটি টন ধ্বংসাবশেষ জমা হয়েছে যা দ্রুত অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে। নতুন পরিকল্পনায় রাফাহ শহরকে কেন্দ্র করে প্রথম ধাপের কাজ শুরু হবে, যেখানে এক লাখেরও বেশি স্থায়ী আবাসন, ২০০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ৭৫টি চিকিৎসা কেন্দ্র নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
কুশনারের মতে, আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যেই ‘নিউ রাফাহ’ দৃশ্যমান হবে। মানচিত্রে ১৮০টি সুউচ্চ টাওয়ার বিশিষ্ট পর্যটন কেন্দ্র ছাড়াও একটি নতুন সমুদ্রবন্দর এবং বিমানবন্দর নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
তবে এই পুরো মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পূর্বশর্ত হিসেবে হামাসের সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ দাবি করেছে হোয়াইট হাউস। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, হামাস অস্ত্র ত্যাগ না করলে তাদের অস্তিত্ব চিরতরে মুছে দেওয়া হবে।
এদিকে এই পরিকল্পনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ ট্রাম্পের নেতৃত্বের প্রশংসা করলেও স্পষ্ট করেছেন, গাজা থেকে হামাসকে সম্পূর্ণ বিতাড়িত করাই হবে আসল পরীক্ষা। অন্যদিকে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস পূর্ণাঙ্গ শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি গাজা প্রশাসনে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কেন্দ্রীয় ভূমিকা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
সূত্র: বিবিসি
বিডি প্রতিদিন/নাজমুল