ভেনেজুয়েলার বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ বিস্ফোরক দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করার সময় মার্কিন বাহিনী তাকে এবং তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের মাত্র ১৫ মিনিট সময় দিয়েছিল।
সম্প্রতি ফাঁস হওয়া একটি ভিডিও রেকর্ডিং থেকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। মার্কিন অভিযানের সাত দিন পর অনুষ্ঠিত প্রায় দুই ঘণ্টার একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকের ওই ভিডিওতে রদ্রিগেজকে বলতে শোনা যায়, মার্কিন সেনারা তাকে, তার ভাই হোর্হে রদ্রিগেজ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেয়োকে সরাসরি হুমকি দিয়েছিল যে হয় তারা ওয়াশিংটনের শর্ত মেনে নেবে, নয়তো তাদের মেরে ফেলা হবে।
রদ্রিগেজের মতে, মাদুরোকে তুলে নেওয়ার প্রথম মিনিট থেকেই এই হুমকি ও ব্ল্যাকমেইল শুরু হয় এবং মার্কিন বাহিনী। এমনকি তাদের এমনও জানিয়েছিল যে মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে হত্যা করা হয়েছে।
'লা হোরা দে ভেনেজুয়েলা' নামক একটি স্থানীয় সাংবাদিক গোষ্ঠীর হাতে আসা ওই ভিডিওতে দেখা যায়, মাদুরো পরবর্তী পরিস্থিতিতে চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করছে তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর অবশিষ্টাংশ। যদিও গুঞ্জন রয়েছে যে মাদুরোকে বন্দি করার আগেই রদ্রিগেজ এবং তার ভাই ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে গোপন সমঝোতা করেছিলেন।
কিন্তু ফাঁস হওয়া ভিডিওতে রদ্রিগেজকে অত্যন্ত বিমর্ষ অবস্থায় দেখা গেছে। তিনি সেখানে দাবি করেন, এই পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নেওয়া তার জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক ছিল। তারা যেকোনো পরিণতি বরণ করে নিতে প্রস্তুত ছিলেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে তার প্রধান তিনটি লক্ষ্য হলো দেশে শান্তি বজায় রাখা, বন্দি নেতাদের উদ্ধার করা এবং রাজনৈতিক ক্ষমতা কুক্ষিগত রাখা।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডেলসি রদ্রিগেজের নেতৃত্বের প্রশংসা করলেও তাকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন। ট্রাম্প জানিয়েছেন, রদ্রিগেজ যদি আমেরিকার কথামতো কাজ না করেন, তবে তাকে মাদুরোর চেয়েও বড় মূল্য দিতে হবে।
মূলত ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল সম্পদের দখল পেতেই ওয়াশিংটন রদ্রিগেজকে সমর্থন দিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঐতিহাসিক মার্গারিটা লোপেজ মায়া এই পুরো ঘটনাকে রদ্রিগেজের তৈরি করা একটি সাজানো গল্প হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তার মতে, অভ্যন্তরীণ কারো বড় ধরণের সহযোগিতা ছাড়া মাদুরোকে এভাবে সরিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব ছিল না। বর্তমানে মুখে যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা করলেও বাস্তবে রদ্রিগেজ প্রশাসন ট্রাম্পের প্রতিটি নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করে চলেছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
বিডি প্রতিদিন/নাজমুল