২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাসে এক চরম অনিশ্চয়তার দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকল। আমেরিকা ও রাশিয়ার মধ্যে থাকা সর্বশেষ পরমাণু অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি নিউ স্টার্টের মেয়াদ বাড়ানোর পথে না হেঁটে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন একে বিলুপ্ত হতে দিয়েছে। এর ফলে স্নায়ুযুদ্ধ পরবর্তী সময়ের স্থিতিশীলতা ভেঙে নতুন পারমাণবিক প্রতিযোগিতার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েছে বিশ্ব।
বর্তমানে ডুমসডে ঘড়ির কাঁটা মাঝরাত থেকে মাত্র ৮৫ সেকেন্ড দূরে, যা মানবজাতির জন্য চরম ঝুঁকির সংকেত। এই চুক্তির অবসানের ফলে মস্কো ও ওয়াশিংটন তাদের পরমাণু অস্ত্রাগার সীমাহীনভাবে বাড়ানোর ছাড়পত্র পেয়ে গেল। এই পরিস্থিতির সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে। বিশেষ করে ভারতের জন্য এটি গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভারত বর্তমানে চীন ও পাকিস্তানের মতো দুই পরমাণু শক্তিধর প্রতিবেশীর মাঝখানে অবস্থান করছে। সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, চীনের কাছে বর্তমানে অন্তত ৬০০টি পরমাণু অস্ত্র রয়েছে এবং তারা প্রতি বছর প্রায় ১০০টি করে নতুন ওয়ারহেড তৈরি করছে। বেইজিং যদিও আত্মরক্ষার দোহাই দিচ্ছে, কিন্তু কোনো আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণ চুক্তি না থাকায় ভারতের জন্য নিরাপত্তা ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে।
অন্যদিকে পশ্চিম সীমান্তে পাকিস্তানও পিছিয়ে নেই। দেশটির হাতে প্রায় ১৭০টি ওয়ারহেড রয়েছে এবং তারা প্রতি বছর নতুন অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ মজুত করছে। ভারত সবসময়ই ন্যূনতম সুরক্ষা বজায় রাখা এবং আগে অস্ত্র ব্যবহার না করার নীতিতে বিশ্বাসী কিন্তু বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আমেরিকা ও রাশিয়ার এই অস্ত্র প্রতিযোগিতার শুরু ভারতকেও তার প্রতিরক্ষা কৌশল পুনর্মূল্যায়ন করতে বাধ্য করতে পারে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্পষ্ট করে দিয়েছেন, চীনকে অন্তর্ভুক্ত না করে তারা নতুন কোনো চুক্তিতে আগ্রহী নন। কিন্তু বেইজিং এই মুহূর্তে কোনো ধরনের নিরস্ত্রীকরণ আলোচনায় বসতে নারাজ। এই অচলাবস্থা উত্তর কোরিয়ার মতো দেশগুলোকেও তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি আরও ত্বরান্বিত করতে উৎসাহ জোগাবে। ইউক্রেন এবং পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধের মধ্যে এই চুক্তির অবসান বিশ্বশান্তিকে এক গভীর খাদের কিনারায় ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের মতো দেশগুলো এখন এক অদ্ভুত সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়ে, যেখানে বৈশ্বিক শক্তিগুলোর রেষারেষি তাদের আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে সরাসরি বিঘ্নিত করছে।
সূত্র: এনডিটিভি
বিডি প্রতিদিন/নাজমুল