জেফরি এপস্টেইন কেলেঙ্কারির রেশ ধরে আসা নতুন রাজনৈতিক ঝড়ে টালমাটাল ব্রিটিশ সরকার। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের অতি ঘনিষ্ঠ সহযোগী ডাউনিং স্ট্রিটের চিফ অফ স্টাফ মর্গ্যান ম্যাকসুইনির পদত্যাগের পর ঘটনা আরও বিপজ্জনক মোড় নিচ্ছে। খোদ প্রধানমন্ত্রীর স্থায়িত্ব নিয়েই এখন বড়সড় প্রশ্ন উঠছে।
পিটার ম্যান্ডেলসনকে কেন্দ্র করে নতুন করে সামনে আসা বিতর্ক এবং সেই সূত্রে এপস্টাইন সংযোগের খবর ছড়িয়ে পড়তেই লন্ডনের রাজনৈতিক অলিন্দে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্টারমারের নির্বাচনী কৌশলের মূল কারিগর হিসেবে পরিচিত ম্যাকসুইনির বিদায়কে তার সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিরোধী দলগুলোর পাশাপাশি খোদ লেবার পার্টির অন্দরেও এখন নেতৃত্ব পরিবর্তনের গুঞ্জন শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নৈতিক ও প্রশাসনিক প্রশ্নে স্টারমার প্রশাসনের ওপর থেকে সাধারণ মানুষের আস্থা কমতে শুরু করেছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে ডাউনিং স্ট্রিটের এই সংকট কাটবে নাকি তা আরও ঘনীভূত হবে, তা নিয়ে সংশয় কাটছে না।
এই পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে সামনে আসছে শাবানা মাহমুদের নাম। সরকারের ভেতরে অত্যন্ত দক্ষ এবং প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত শাবানা এই মুহূর্তে দলের জন্য আস্থার প্রতীক হয়ে উঠতে পারেন বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ।
বর্তমান সংকটের মূলে রয়েছে জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু পুরনো ফাইলের নতুন করে প্রকাশ্যে আসা। যেখানে নাম রয়েছে প্রবীণ রাজনীতিক পিটার ম্যান্ডেলসনের। অভিযোগ উঠেছে, ম্যাকসুইনি এই ধরনের বিতর্কিত ব্যক্তিদের নিয়োগ বা সুরক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। সেই বিতর্ক যখন তীব্র আকার ধারণ করে, তখন সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষার্থেই পদত্যাগের পথ বেছে নেন তিনি। তবে ম্যাকসুইনির প্রস্থান স্টারমারকে কিছুটা স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদী সংকটের সমাধান হবে কি না তা সময়ই বলে দেবে।
সূত্র: দ্য সানডে গার্ডিয়ান
বিডি প্রতিদিন/নাজমুল