ইরানের সঙ্গে চরম উত্তেজনার মধ্যেই কাতারের আল-উদেইদ ঘাঁটির লঞ্চারে ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপন করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যা কার্যত মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম মার্কিন সামরিক ঘাঁটি। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জানুয়ারির পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে ট্রাক-ভিত্তিক লঞ্চারে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যাতে সেগুলো দ্রুত নাড়াচড়া বা মোতায়েন করা সম্ভব হয়।
এদিকে, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ওমানের রাজধানী মাস্কাটে বৈঠক চলছে ওয়াশিংটন ও তেহরানের সরকারি প্রতিনিধিদের মধ্যে। যদি এ বৈঠক ব্যর্থ হয়, অর্থাৎ কোনো সমঝোতায় যদি যেতে না পারেন দু’দেশের প্রতিনিধিরা— তাহলে ইরানের জন্য ‘খুব কঠিন কিছু’ অপেক্ষা করছে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
গতকাল মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সেই সাক্ষাৎতকারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বৈঠকের ব্যাপারে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছেন, হয় আমরা সমঝোতায় পৌঁছাবো, চুক্তি হবে অথবা আমাদের খুব কঠিন কিছু করতে হবে। আমাদের একটি বড় নৌবহর বর্তমানে সেখানে (মধ্যপ্রাচ্যে) অবস্থান করছে এবং সম্ভবত আরও একটি বড় নৌবহর আমরা পাঠাব।
উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে প্রায় দু’যুগ ধরে তেহরানের সঙ্গে উত্তজনা চলছে ওয়াশিংটনের। ২০১৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর এ উত্তেজনা বাড়তে থাকে।
২০২৪ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। তার ধারাবাকিতাতেই ২০২৫ সালের জুন মাসে ইরান-ইসরায়েলের সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র। তারপর থেকে যুদ্ধবিরতি চললেও দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পর্যায়ে নেই এখনও।
সূত্র : এএফপি ও আল-জাজিরা।
বিডি-প্রতিদিন/শআ