মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও বিস্ফোরক দাবি করেছেন ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর আইআরজিসি'র সাবেক কমান্ডার হোসেন কানানি। রুশ সংবাদমাধ্যম আরটি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন, সৌদি আরবের কাছে বর্তমানে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র এই বিষয়ে পুরোপুরি অবগত।
রিক সানচেজকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে কানানি বলেন, তাদের কাছে থাকা গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী রিয়াদ ইতিমধ্যেই পারমাণবিক বোমার মালিক হয়েছে এবং ইসরায়েল ও ওয়াশিংটন এই সত্যটি জানলেও গোপন রাখছে।
সাক্ষাৎকারে হোসেন কানানি কেবল সৌদি আরবের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়েই কথা বলেননি বরং ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতার জন্য সরাসরি মোসাদ এবং সিআইএ-র মতো বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাকে দায়ী করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, ইরানে সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভের নেপথ্যে বিদেশি শক্তিগুলোর হাত রয়েছে। তাদের মূল লক্ষ্য কেবল সরকার পতন নয়, বরং ইরানকে খণ্ডবিখণ্ড করা। বিশেষ করে গত জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন বোমা হামলা এবং পরবর্তী মাসগুলোতে চলমান অস্থিরতার ফলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সম্পর্ক এখন খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে আছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরীসহ শক্তিশালী নৌবহর মোতায়েন করা হয়েছে। ওয়াশিংটন দাবি করছে, তেহরানকে অবশ্যই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচি সীমিত করতে হবে। এর বিপরীতে ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার আধুনিকীকরণের ঘোষণা দিয়েছে এবং সামরিক কৌশলে রক্ষণাত্মক অবস্থান থেকে সরে এসে আক্রমণাত্মক নীতি গ্রহণ করেছে। কানানি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সরাসরি কোনো হামলা চালায়, তবে ইরানের প্রথম লক্ষ্যবস্তু মার্কিন ঘাঁটির পরিবর্তে ইসরায়েল হতে পারে।
বিডি প্রতিদিন/নাজমুল