ভোট গণনায় অনিয়মের অভিযোগে চাপের মুখে পড়েছে থাইল্যান্ডের নির্বাচন কমিশন। গত রবিবার দেশটিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুলের দল ভূমজাইথাই পার্টি বড় জয় পেলেও একাধিক আসনে ভোট গণনায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার বিকাল পাঁচটায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন অনিয়মের ভিডিও ও তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে- অন্ধকারে ব্যালট গণনা, বৈধ ভোটকে ভুলভাবে বাতিল হিসেবে চিহ্নিত করা এবং কেন্দ্রের ফলাফলের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের অনলাইন সিস্টেমে দেওয়া সংখ্যার গরমিল।
পিপলস পার্টি ফলাফলে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করলেও ফল মেনে নিয়েছে। তবে দলটি ১৮টি আসনে পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছে।
তৃতীয় স্থানে থাকা ফেউ থাই পার্টি জনসাধারণের সন্দেহ ওঠা এলাকাগুলোতে পুনঃপর্যালোচনার পক্ষে মত দিয়েছে। অন্যদিকে, সামরিকপন্থি ইউনাইটেড থাই নেশন পার্টি সারা দেশে পুনর্গণনার আহ্বান জানিয়েছে।
পিপলস পার্টির বিজয়ী প্রার্থী রুকচানক শ্রীনর্গ বলেন, নির্বাচন কমিশন যদি কোনও ভুল না করে থাকে, তাহলে যতবারই পুনর্গণনা হোক না কেন ফল একই থাকবে। তাহলে মানুষকে পরিষ্কারভাবে দেখানোর জন্য পুনর্গণনা করা হচ্ছে না কেন?
প্রায় ৯৫ শতাংশ কেন্দ্রের ফল আসার পর প্রাথমিক হিসেবে ৫০০ আসনের সংসদে ভূমজাইথাই পার্টি ১৯৩টি আসনে এগিয়ে রয়েছে।
এখনও নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেনি। আইন অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের ৬০ দিনের মধ্যে ফলাফল অনুমোদন করতে হবে।
থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ডেমোক্র্যাট পার্টির নেতা অভিসিত ভেজ্জাজিভা বলেন, দ্রুত স্বচ্ছতা নিশ্চিত না করা হলে জনগণের আস্থা হারাবে নির্বাচন কমিশন। কোনও প্রক্রিয়ার বৈধতা না থাকলে অন্য দেশে কী পরিণতি হয়, আমরা তা দেখেছি।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বুধবার পর্যন্ত তারা ১১৩টি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পেয়েছে এবং সবগুলোই তদন্তাধীন।
নির্বাচন কমিশনের উপ-মহাসচিব ফাসাকর্ন সিরিফাকায়াপর্ন বলেন, কোনও কেন্দ্রে কোনও ধরনের সমস্যা হলে অভিযোগ করা যাবে। আমরা ন্যায্যতা নিশ্চিত করব।
স্বতন্ত্র নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা ভোট৬২ জানিয়েছে, তারা দেশজুড়ে পাঁচ হাজারের বেশি অভিযোগ নথিভুক্ত করেছে। এর মধ্যে এক হাজারের বেশি ক্ষেত্রে ভোটকেন্দ্রের সরকারি ফলাফলের সঙ্গে স্বাধীন পর্যবেক্ষকদের হিসাবের অমিল পাওয়া গেছে। সূত্র: রয়টার্স
বিডি প্রতিদিন/একেএ