রাশিয়ার বিরোধী নেতা ও প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কড়া সমালোচক অ্যালেক্সি নাভালনির মৃত্যু নিয়ে নতুন অভিযোগ তুলেছে ইউরোপের পাঁচটি দেশ। তাদের দাবি, ২০২৪ সালে কারাগারে থাকাকালে নাভালনিকে একটি বিরল ও মারাত্মক বিষ প্রয়োগ করা হয়েছিল। এই বিষের নাম ‘এপিবাটিডিন’ (এক ধরনের শক্তিশালী বিষ, যা মানুষের জন্য প্রাণঘাতী)।
শনিবার দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, সুইডেন ও নেদারল্যান্ডস জানায়, তারা নিশ্চিত যে, নাভালনির মৃত্যুর পেছনে বিষ প্রয়োগের বিষয়টি জড়িত। এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে তারা নাভালনির দেহ থেকে নেওয়া নমুনা পরীক্ষা করেছে। বিবৃতিটি লন্ডন থেকে প্রকাশ করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, পরীক্ষায় ‘এপিবাটিডিন’-এর উপস্থিতি নিশ্চিতভাবে পাওয়া গেছে। এই বিষ সাধারণত দক্ষিণ আমেরিকার বিষধর ব্যাঙের শরীরে পাওয়া যায়। এটি স্বাভাবিকভাবে রাশিয়াতে পাওয়া যায় না। তাই ইউরোপীয় দেশগুলোর মতে, এই বিষ প্রয়োগ পরিকল্পিতভাবেই করা হয়েছিল।
নাভালনি ছিলেন রাশিয়ার সরকার ও ক্রেমলিনের কড়া সমালোচক। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলার কারণে তিনি একাধিকবার গ্রেপ্তার হন এবং দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন। ২০২৪ সালে একটি বন্দিশালায় থাকার সময় তার মৃত্যু হয়। তখন থেকেই তার মৃত্যুকে ঘিরে নানা প্রশ্ন ওঠে।
তবে রাশিয়া সরকার এই অভিযোগ মানতে নারাজ। মস্কো বারবার বলেছে, নাভালনির মৃত্যুর জন্য তারা কোনোভাবেই দায়ী নয়। তাদের দাবি, মৃত্যু স্বাভাবিক কারণেই হয়েছে।
এদিকে ইউরোপীয় দেশগুলোর এই যৌথ বক্তব্যের ফলে নাভালনির মৃত্যু নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিডিপ্রতিদিন/কবিরুল