নরওয়ের এক গোপন পরীক্ষা এবং আলোচিত 'হাভানা সিনড্রোম' নিয়ে নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন পোস্ট। আজ শনিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিআইএ এবং পেন্টাগন নরওয়েতে একটি গোপন ডিভাইসের কার্যকারিতা পর্যালোচনা করে দেখেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নরওয়ের একজন সরকারি বিজ্ঞানী মাইক্রোয়েভ সৃষ্টিকারী একটি ডিভাইস পরীক্ষা করার সময় অদ্ভুত সব স্নায়বিক সমস্যায় আক্রান্ত হন। এই লক্ষণগুলো অনেকটা রহস্যময় ‘হাভানা সিনড্রোমের’ মতোই ছিল। বিগত কয়েক বছর ধরে মার্কিন কূটনীতিক ও গোয়েন্দাদের মধ্যে এমন অবস্থা দেখা যাচ্ছে। নরওয়ে সরকার এই ঘটনার ব্যাপারে সিআইএকে অবহিত করার পর পেন্টাগন এবং হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা অন্তত দুইবার দেশটি সফর করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই পরীক্ষার ফলাফল থেকে এটি সরাসরি প্রমাণিত হয়নি যে কোনো বিদেশি শত্রু দেশ মার্কিন কর্মকর্তাদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। তবে এটি নিশ্চিত করেছে, পালসড-এনার্জি (স্পন্দিত শক্তি) সম্পন্ন ডিভাইসগুলো মানুষের জীবতত্ত্বের ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে সক্ষম। রয়টার্স জানিয়েছে, তারা তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবেদনটির সত্যতা যাচাই করতে পারেনি। তবে এই ঘটনাটি হাভানা সিনড্রোমের উৎস সন্ধানে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২০১৬ সালে কিউবার রাজধানী হাভানায় কর্মরত কয়েকজন মার্কিন কূটনৈতিক হঠাৎই অভূতপূর্ব এক রোগে আক্রান্ত হন। একেকজনের শুরুর উপসর্গ একেক রকম। কেউ হয়তো হঠাৎই তীক্ষ্ণ একটা শব্দ শুনতে পান। কেউ কেউ অনুভব করেন তীব্র একটা চাপ কিংবা কম্পন। কারও মনে হতে থাকে, ঘরটা দুলছে। এরপর শুরু হয় মাথাব্যথা আর বমিভাব। মাথাও ঘুরাতে থাকে। আক্রান্ত ব্যক্তি কাজকর্মে ঠিকঠাক মনঃসংযোগ করতে পারছিলেন না। ভুলে যাওয়ার প্রবণতাও দেখা গিয়েছিল। দৃষ্টিশক্তি, শ্রবণশক্তি এবং দৈহিক ভারসাম্যও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। অনেকের উপসর্গই দীর্ঘদিন রয়ে গিয়েছিল। বাধ্য হয়ে অবসর নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
দিব্যি সুস্থ মধ্যবয়সী এই মানুষগুলোর হঠাৎ এমন উপসর্গ দেখা দেওয়ার পেছনে কী কারণ থাকতে পারে? স্নায়ুতন্ত্রের কোনো রোগ? তাও আবার এত মানুষের একই সময়ে? নাকি তীব্র কাজের চাপে সৃষ্ট কোনো মানসিক রোগ? নাকি বিকিরণের (রেডিয়েশন) কারণে এমনটা ঘটেছে? সন্দেহপ্রবণ হয়ে কেউ কেউ এমনটাও ভেবেছিলেন, যে শব্দ বা কম্পন অনুভব করার পর উপসর্গগুলো দেখা গেল, সেটাই কি প্রতিপক্ষের নিক্ষেপ করা বিশেষ কোনো অস্ত্র? দেখা যায় না, ছোঁয়া যায় না, এমন কোনো অস্ত্র? তবে শেষ পর্যন্ত কোনো সঠিক কারণ উদঘাটন করা যায়নি।
সূত্র: রয়টার্স
বিডি প্রতিদিন/নাজমুল