মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের জেনারেল ইব্রাহিম জাব্বারি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালিয়ে যায়, তবে ইরান পুরো অঞ্চলের সব অর্থনৈতিক কেন্দ্রে পাল্টা আঘাত হানবে।
তিনি বলেন, আমরা শত্রুকে জানিয়ে দিচ্ছি, তারা যদি আমাদের প্রধান কেন্দ্রগুলোতে আঘাত করে। তাহলে আমরা পুরো অঞ্চলের সব অর্থনৈতিক কেন্দ্রে আঘাত করব।'
ইরানের বার্তা সংস্থা আইএসএনএকে দেওয়া বক্তব্যে জাব্বারি আরও দাবি করেন, ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে। তার ভাষ্য, ‘বর্তমানে তেলের দাম ৮০ ডলারের ওপরে রয়েছে এবং শিগগিরই তা ২০০ ডলারে পৌঁছাবে।’
এর প্রভাব ইতোমধ্যেই জ্বালানি বাজারে পড়তে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে ৮৫ ডলারের ওপরে উঠেছে, যা ২০২৪ সালের জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট বাণিজ্যিক তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে রপ্তানিকৃত বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসও এই পথেই যায়। প্রতিদিন বৈশ্বিক তেল ব্যবহারের প্রায় ২০ শতাংশ অর্থাৎ আনুমানিক ২ কোটি ব্যারেল তেল এই সরু প্রণালি দিয়ে অতিক্রম করে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে তার সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে।
সূত্র: আল-জাজিরা
বিডি-প্রতিদিন/আশফাক