দীর্ঘ এক দশক ধরে অত্যন্ত গোপনে মাটির নিচে বিশাল 'ক্ষেপণাস্ত্র শহর' (আন্ডারগ্রাউন্ড বাংকার) তৈরি করেছিল ইরান। উদ্দেশ্য ছিল শত্রুপক্ষের যেকোনো বিমান হামলা থেকে নিজেদের অস্ত্রাগার রক্ষা করা। কিন্তু বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে তেহরানের সেই দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা কৌশল এখন বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।
সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্য ও স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, ইরানের এই সুড়ঙ্গপথের প্রবেশদ্বারগুলোই এখন তাদের জন্য ফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন ও ইসরায়েলি ড্রোন এবং যুদ্ধবিমানগুলো এসব সুড়ঙ্গের মুখে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাচ্ছে। ফলে যখনই কোনো ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ট্রাক বা লঞ্চার বাইরে বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে, তখনই সেগুলোকে আকাশ থেকে ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি শক্তিশালী মার্কিন বোমারু বিমান থেকে ছোড়া গোলার আঘাতে অনেক সুড়ঙ্গের মুখ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে, যার ফলে মাটির নিচেই আটকা পড়েছে ইরানের বিশাল অস্ত্রভাণ্ডার।
কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, শিরাজ, ইসফাহান, তাবরিজ ও কেরমানশাহের কাছে অবস্থিত বেশ কিছু ভূগর্ভস্থ ঘাঁটি ইতিমধ্যে একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছে। যদিও গত বছরের মার্চ মাসে ইরান তাদের একটি বিশাল আন্ডারগ্রাউন্ড ফ্যাসিলিটির ভিডিও প্রকাশ করে নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছিল, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই কৌশল খুব একটা কাজে আসছে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের কারিগরি জটিলতা এবং এক জায়গাতে বড় মজুদ রাখার বিপদ বুঝতে পেরে ইরান এখন তাদের কৌশল পরিবর্তন করছে।
ধারণা করা হচ্ছে, বাংকারগুলো বিমান হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়ায় ইরান এখন তাদের ট্রাক মাউন্টেড লঞ্চার এবং ক্ষেপণাস্ত্রগুলো খোলা জায়গায় ছড়িয়ে দিচ্ছে। এটি মূলত আকাশপথে হামলা থেকে বাঁচার একটি মরিয়া চেষ্টা। এদিকে পেন্টাগন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, গত কয়েক দিনে ইরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার হার কিছুটা কমেছে। এর কারণ হিসেবে তারা বলছেন, হয় ইরানি উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, অথবা তেহরান একটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কথা মাথায় রেখে তাদের অবশিষ্ট ২,৫০০ থেকে ৬,০০০ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ জমিয়ে রাখছে। বর্তমান এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ কৌশলে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।
বিডি প্রতিদিন/নাজমুল