ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার ছয় দিন পর, আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির সাথে সাথে এই সংঘাত আরও তীব্রতর হচ্ছে। 'অপারেশন এপিক ফিউরি' (Operation Epic Fury) নামক এই অভিযানে ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশে হামলা অব্যাহত রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টার প্রধান ঘটনাবলি নিচে তুলে ধরা হলো:
ইরান পরিস্থিতি
-
সামরিক অভিযান ও প্রাণহানি: হামলার সপ্তম দিনে পা রেখেছে এই সংঘাত। গত শনিবার থেকে এ পর্যন্ত ইরানে ১৩৩২ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা ইরানের ৮০ শতাংশ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে এবং "প্রায় পূর্ণাঙ্গ আকাশ আধিপত্য" অর্জন করেছে।
-
নেতৃত্বের উত্তরাধিকার ও ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ: গত শনিবার তেহরানে হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনী নিহত হওয়ার পর উত্তরাধিকার নিয়ে আলোচনা চলছে। খামেনীর ছেলে মোজতবা খামেনীর নাম আসলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে "অগ্রহণযোগ্য" বলে অভিহিত করেছেন এবং ইরানের পরবর্তী নেতা নির্বাচনে সরাসরি ভূমিকা রাখার ইচ্ছা পোষণ করেছেন।
-
স্থল অভিযানের সতর্কতা: ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী লারিজানি সতর্ক করেছেন যে, ইরানি বাহিনী মার্কিন স্থল অভিযানের জন্য "অপেক্ষা করছে" এবং তারা হাজার হাজার মার্কিন সেনাকে হত্যা ও বন্দি করার হুমকি দিয়েছে।
-
আলোচনা প্রত্যাখ্যান: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনকে বিশ্বাস করা যায় না, তাই যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনার কোনো কারণ নেই।
উপসাগরীয় দেশগুলোর অবস্থা
-
কুয়েত: ইরানি হামলার আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র কুয়েত সিটিতে তাদের দূতাবাসের কার্যক্রম স্থগিত করেছে।
-
বাহরাইন: একটি রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগারে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে, তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
-
সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতার: আমিরাত ১২০টিরও বেশি ড্রোন এবং বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবি করেছে। কাতারও গত বৃহস্পতিবার দোহায় বিকট বিস্ফোরণের পর ইরানি হামলার শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছে।
-
নাগরিক সরিয়ে নেওয়া: মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, প্রায় ২০,০০০ আমেরিকান ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্য ছেড়েছেন। তবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে একটি ফরাসি উদ্ধারকারী বিমান মাঝপথ থেকে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে।
ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন
-
তেল আবিবে হামলা: ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড তেল আবিব এবং ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বিত হামলার ঘোষণা দিয়েছে।
-
বিধিনিষেধ: নিরাপত্তা হুমকির মুখে ইসরায়েল জেরুজালেমের ওল্ড সিটির সমস্ত পবিত্র স্থান বন্ধ করে দিয়েছে এবং শুক্রবারের নামাজ বাতিল করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে ও অর্থনীতি
-
হামলার ব্যয়: প্রথম ১০০ ঘণ্টায় এই যুদ্ধের খরচ দাঁড়িয়েছে ৩.৭ বিলিয়ন ডলার (প্রতিদিন প্রায় ৮৯১ মিলিয়ন ডলার)।
-
ট্রাম্পের দাবি: ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরান "নির্ধারিত সময়ের আগেই ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে" এবং তাদের এখন কোনো বিমানবাহিনী অবশিষ্ট নেই।
-
অর্থনৈতিক প্রভাব: যুদ্ধের প্রভাবে তেলের দাম বাড়ায় মার্কিন শেয়ার বাজারে ধস নেমেছে; ডাও জোন্স ১,০০০ পয়েন্টের বেশি পড়ে গেছে।
ইরাক, লেবানন ও মিশর
-
ইরাক: বাগদাদ বিমানবন্দরের কাছে মার্কিন সম্পদ রয়েছে এমন একটি ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা রুখে দিয়েছে ইরাকি বাহিনী।
-
লেবানন: ইসরায়েল লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল এবং বৈরুতে ব্যাপক বোমাবর্ষণ করছে।
-
মিশর: প্রেসিডেন্ট সিসি সতর্ক করেছেন যে যুদ্ধের কারণে পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশ অর্থনৈতিকভাবে "জরুরি অবস্থার" কাছাকাছি রয়েছে।
ইউরোপ ও অন্যান্য দেশ
-
ইউরোপের বিভক্তি: যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স পূর্ব ভূমধ্যসাগরে নৌ ও বিমান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম পাঠালেও জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়াম শুধুমাত্র কূটনৈতিক পন্থায় জোর দিচ্ছে। সাইপ্রাসে ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ার ফোর্স ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা হয়েছে।
-
আজারবাইজান: ইরানি ড্রোন হামলায় ৪ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হওয়ার পর আজারবাইজান ইরানের সাথে সীমান্ত দিয়ে ট্রাক চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে এবং "প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থার" প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বিডি প্রতিদিন/আশিক