সাত দিন ধরে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধের মধ্যে আজ শুক্রবার জুমার নামাজে সমেবেত হয়েছেন ইরানি নাগরিকরা। তারা দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে স্মরণ করে তার ছবি নিয়ে নামাজে যোগ দেন।
নামাজ চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত অনেকেই ইরানি পতাকা হাতে নিয়ে সরকারের প্রতি সমর্থন দেখিয়েছেন। ইমাম খামেনি গ্র্যান্ড মসজিদয়ের বাইরে জনতার সমাগমের ভিডিওতে দেখা গেছে, পুরুষ ও মহিলা কালো পোশাকে ভীড় করছেন।
একজন বক্তা লাউডস্পিকারে খামেনিকে স্মরণ করে বলেন, ‘তিনি আমাদের সময়ে ধার্মিকতা ও রক্ষণশীলতার প্রতীক।’ অন্যদিকে, নামাজে অনেক মানুষ কাঁদছেন, তাদের চোখে শোকের অশ্রু। নামাজের পর অংশগ্রহণকারীরা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের বিরুদ্ধে পদযাত্রা করেছেন। একই চিত্র দেখা গেছে ইলাম, বরুজের্দ এবং জাহেদানসহ অন্যান্য শহরে।
এদিকে, নামাজ চলাকালীন তেহরান ও অন্যান্য শহরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বিমান হামলা অব্যাহত ছিল। সর্বশেষ হামলায় লক্ষ্যবস্তু হয়েছে একটি সেনা একাডেমি, রাজনৈতিক অফিস সংলগ্ন এলাকা, আবাসিক ভবন, পার্কিং লট এবং পেট্রোল স্টেশন, যেখানে শনিবার খামেনি নিহত হন।
মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশে মুসলিমরা রমজানের জুমার নামাজও যুদ্ধের মধ্যে পালন করেছেন। একই সময়ে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবানন এবং বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে হামলা চালাচ্ছে, যা প্রচুর লেবাননিকে জোরপূর্বক স্থানান্তরের মুখে ফেলে দিয়েছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলার জবাবে সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত লক্ষ্যবস্তু হয়েছে, যা মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উপস্থিতির কারণে।
অপরদিকে, জেরুজালেমে আল-আকসা মসজিদে শুক্রবারের নামাজ বাতিল ঘোষণা করেছে ইসরায়েলি প্রশাসন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি ইরানের প্রতিশোধী হামলার প্রভাব। তবে আল-আকসার সিনিয়র ইমাম শেখ ইক্রিমা সাবরি বলেন, ‘অধিকারীরা যে কোনো সুযোগে আল-আকসা বন্ধ করার চেষ্টা করছে, যা সম্পূর্ণ অবিচার।’
সূত্র: আল-জাজিরা
বিডি-প্রতিদিন/আশফাক