হোয়াইট হাউসে এক অনুষ্ঠানে ইরান নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য এবং সেই সময় আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির করতালির দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ইন্টার মায়ামির এমএলএস শিরোপা উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই ঘটনা ঘটে।
অনুষ্ঠানে ট্রাম্প যখন ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান হামলার প্রসঙ্গ তোলেন, তখন মেসি তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। বক্তব্যের এক পর্যায়ে ট্রাম্প বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী এবং তাদের ইসরায়েলি সহযোগীরা শত্রুকে ধ্বংস করে দিচ্ছে এবং এই অভিযান নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অনেক এগিয়ে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী সর্বকালের সেরা। এই মন্তব্যের সময় উপস্থিতদের সঙ্গে মেসি এবং ইন্টার মায়ামি দলের খেলোয়াড়দের করতালি দিতে দেখা যায়।
এই মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, যুদ্ধ নিয়ে এমন বক্তব্যের সময় মেসির প্রতিক্রিয়া কেন করতালি ছিল।
ফিলিস্তিনি আমেরিকান লেখক আলী আবুনিমাহ সামাজিক মাধ্যমে ভিডিওটি শেয়ার করে তীব্র সমালোচনা করেন।
স্প্যানিশ সাংবাদিক লায়লা হামেদ এ ঘটনাকে অদ্ভুত বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক হামলায় ইরানে শত শত শিশু নিহত হওয়ার খবর রয়েছে। এমন সময় এই দৃশ্য তাকে বিস্মিত করেছে।
তিনি আরও মন্তব্য করেন, ট্রাম্প জানেন তিনি কী করছেন এবং এই ধরনের অনুষ্ঠানে অ্যাথলেটদের উপস্থিতি ব্যবহার করা হচ্ছে।
ইউটিউব চ্যানেল ট্যাকটিক্যাল ম্যানেজারও এ বিষয়ে মন্তব্য করেছে। তাদের মতে, এমন দৃশ্য কল্পনা করা কঠিন যেখানে ডোনাল্ড ট্রাম্প অন্য দেশে বোমা হামলার কথা বলছেন আর পেছনে মেসি, সুয়ারেজ দাঁড়িয়ে আছেন।
অনুষ্ঠানে ট্রাম্প মেসিকে উদ্দেশ করে বলেন, লিও তুমি এখানে এসেছো এবং জয়ী হয়েছো। এটি কঠিন কাজ এবং তোমার ওপর অনেক চাপ থাকে।
এ সময় মেসি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ইন্টার মায়ামির একটি স্বাক্ষর করা ফুটবল উপহার দেন।
ট্রাম্প তার ছেলে ব্যারন ট্রাম্পের মেসির প্রতি অনুরাগের কথাও উল্লেখ করেন এবং বলেন মেসি কিংবদন্তি পেলের চেয়েও বড় খেলোয়াড় হতে পারেন।
অনুষ্ঠানে ইন্টার মায়ামির সহ স্বত্বাধিকারী হোর্হে মাস, কোচ হাভিয়ের মাশ্চেরানো প্রেসিডেন্টকে দলের জার্সি ও একটি ঘড়ি উপহার দেন।
এই অনুষ্ঠান এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হয় যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং মেক্সিকোতে কার্টেল নেতা নেমেসিও ওসেগুয়েরার মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে ২০২৬ বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়েও আলোচনা চলছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
বিডি প্রতিদিন/আশিক