ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র যদি স্থল বাহিনী পাঠানোর কথা বিবেচনা করে, তবে সেটি হবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং প্রায় ‘অযৌক্তিক’ সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও অধ্যাপক রবার্ট ফার্লি।
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান অপারেশন এপিক ফিউরি দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করেছে। কিন্তু এখনো যদি বিমান হামলা ও সামরিক চাপের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত না হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে কঠিন প্রশ্ন দাঁড়াতে পারে। শুধু আকাশপথে হামলা চালিয়ে কি ইরানের সরকারকে দুর্বল করা সম্ভব, নাকি স্থল অভিযানের মতো বড় পদক্ষেপ নিতে হবে।
ফার্লির মতে, বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরান আক্রমণ করতে চায় না। ইরানে আক্রমণ করা সুস্থ মানুষের কাজ নয়, এমনকি ট্রাম্প প্রশাসনের জাতীয় নিরাপত্তা নেতৃত্বও তা চায় না। তবে যদি যুক্তরাষ্ট্র তার যুদ্ধের লক্ষ্য শিথিল না করে এবং ইরানের সরকারও ভেঙে না পড়ে, তাহলে ওয়াশিংটন শেষ পর্যন্ত স্থল বাহিনী মোতায়েনের বিষয়টি ভাবতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ইরানে স্থল অভিযান চালাতে গেলে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো কোথা থেকে অভিযান শুরু করা হবে? আগে আফগানিস্তান ও ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের বড় সামরিক ঘাঁটি ছিল, যেগুলো সম্ভাব্য স্থল অভিযানের জন্য লজিস্টিক সহায়তা দিতে পারত। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ২০২১ সালে আফগানিস্তান থেকে পুরোপুরি সেনা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। অন্যদিকে ইরাকে এখনো কিছু মার্কিন সেনা থাকলেও তাদের সংখ্যা খুবই কম এবং দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতিও বড় ধরনের সামরিক অভিযানের জন্য উপযুক্ত নয়। তুরস্কের ক্ষেত্রেও একই সমস্যা রয়েছে। ইরান-তুরস্ক সীমান্ত ভৌগোলিকভাবে কঠিন এবং তুরস্কও বড় মার্কিন বাহিনী মোতায়েনের অনুমতি দেবে এমন সম্ভাবনা খুব কম।
এই পরিস্থিতিতে ফার্লি বলেন, বড় ধরনের স্থল অভিযান চালাতে গেলে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ হতে পারে সমুদ্রপথে হামলা। তবে এমন অভিযান অত্যন্ত জটিল এবং এতে দীর্ঘ সময় ধরে মার্কিন নৌ ও বিমান শক্তির ওপর ব্যাপক চাপ পড়বে।
আরেকটি সম্ভাব্য কৌশল হিসেবে ফার্লি উল্লেখ করেছেন তথাকথিত আফগান মডেল। এই মডেলে স্থানীয় মিত্র বাহিনীকে ব্যবহার করে যুদ্ধ পরিচালনা করা হয়, আর তাদের সহায়তা দেয় মার্কিন বিশেষ বাহিনী ও নির্ভুল বিমান হামলা।
ফার্লি বলেন, ইরান ভৌগোলিকভাবে বড়, জনসংখ্যাও অনেক বেশি এবং দেশটির ভূপ্রকৃতি জটিল। ফলে সরাসরি স্থল অভিযান চালাতে হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার ওপর দীর্ঘমেয়াদি বিশাল চাপ সৃষ্টি করবে।
এদিকে মার্কিন প্রশাসনের ভেতরেও এ বিষয়ে মতভেদ থাকার খবর পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারকো রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ স্থল বাহিনী মোতায়েনের সম্ভাবনা নিয়ে ভিন্ন অবস্থান বিবেচনা করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধ কীভাবে শেষ হবে এ প্রশ্নের পরিষ্কার উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি। তাই যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এই সংঘাতের একটি বাস্তবসম্মত সমাপ্তি খুঁজে বের করা।
সূত্র: ওয়ান নাইটি ফোর্টিফাইভ
বিডি-প্রতিদিন/আশফাক