ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলায় নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটি বলেছে, তারা চলমান সংঘাতে জড়াতে চায় না এবং উত্তেজনা আরও বাড়ুক সেটিও চায় না।
সোমবার জেনেভায় জাতিসংঘে আমিরাতের রাষ্ট্রদূত জামাল আল মুশাররাখ এ অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, আমিরাত সংঘাত বা উত্তেজনার মধ্যে জড়িয়ে পড়তে চায় না এবং ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলায় তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, আমরা খুব পরিষ্কারভাবে জানিয়েছি—আমাদের ভূখণ্ড থেকে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলা হবে না। মুশাররাখ আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির আগেও এবং আঞ্চলিক এই সংকটের সময়ও আমিরাত একই অবস্থান জানিয়ে আসছে। তাদের দেশ বারবার সংলাপ, কূটনীতি এবং উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর এর জবাবে ইরান ইসরায়েলের পাশাপাশি উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে মার্কিন স্থাপনা ও সম্পদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। এসব হামলার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, বাহরাইন ও কুয়েতও রয়েছে।
মুশাররাখ বলেন, এই সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে আমিরতা ১৪০০–এর বেশি হামলার মুখে পড়েছে। এর মধ্যে ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলাও রয়েছে। তবে এর বেশিরভাগই প্রতিহত করা হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, বেসামরিক অবকাঠামো—যেমন সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্র (ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট)—লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। এসব হামলায় চারজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং আরও ১১৪ জন আহত হয়েছেন।
আমিরাতের এই রাষ্ট্রদূত বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলো এই সংঘাতের কোনো পক্ষ নয়। তাই যেসব দেশ যুদ্ধে জড়িত নয়, তাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানোর কোনো আইনি ভিত্তি নেই।
এর আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুদ্ধের সময় প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তবে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মুশাররাখ বলেন, মাঠের বাস্তবতা নিজেই সবকিছু বলে দেয়—আমার দেশ হামলার শিকার হচ্ছে। এটুকুই যথেষ্ট।
চলমান এই সংঘাতের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাহত হয়েছে এবং কয়েকটি দেশের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানি কোম্পানিগুলো ‘ফোর্স মেজর’ (ফোর্স মেজর) ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে, ফলে খাদ্যসহ বিভিন্ন সরবরাহেও সংকট দেখা দিয়েছে।
বিডিপ্রতিদিন/কবিরুল