যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহব্যবস্থায় ইতিহাসের ভয়াবহতম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে বলে সতর্ক করেছেন আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।
বাজার বিশ্লেষক সংস্থা কেপলার-এর মধ্যপ্রাচ্য জ্বালানি ও ওপেক প্লাস বিভাগের প্রধান আমেনা বকর সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে এই অচলাবস্থা অব্যাহত থাকলে মার্চের শেষ নাগাদ তেলের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্য সংকট দ্রুত নিরসনের ইঙ্গিত দেওয়ায় তেলের দাম সাময়িকভাবে ১০০ ডলারের নিচে নেমে এসেছিল। তবে আমেনা বকর এই স্বস্তিকে ক্ষণস্থায়ী বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা হুমকির মুখে মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কিছু তেল রফতানিকারক দেশ ইতোমধ্যে উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পক্ষ থেকে মার্কিন নৌবাহিনীর পাহারায় জাহাজ চলাচলের নিশ্চয়তা দেওয়া হলেও, তা আন্তর্জাতিক বাজারে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রণতরি দিয়ে জাহাজ পার করে দেওয়ার আশ্বাস দিলেই রাতারাতি পরিস্থিতির উন্নতি হবে না। মূলত যুদ্ধের অনিশ্চয়তা এবং সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কারণে ব্যবসায়ীরা এখনো এই রুট ব্যবহারে সাহস পাচ্ছেন না। ট্রাম্পের বক্তব্য বাজারের অস্থিরতা সামাল দেওয়ার চেষ্টা মাত্র, যা বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে এখনো সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানিসংকটের পাশাপাশি বড় ধরনের অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা তীব্র হচ্ছে।
সূত্র: সিএনএন
বিডি প্রতিদিন/কেএইচটি