মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো আঞ্চলিক দেশগুলোর নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। তিনি বলেন, চলমান যুদ্ধ প্রমাণ করেছে যে, এসব ঘাঁটি কাউকে সুরক্ষা দেয় না। বরং উল্টো ঝুঁকি তৈরি করে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গালিবাফ পুনরায় একই কথা বলেন। তিনি লেখেন, ‘আমাদের অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো কাউকে রক্ষা করে না—এগুলোই বরং হুমকি।’
তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র তার আঞ্চলিক মিত্রদের চেয়ে ইসরায়েলের স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দেয়। তার ভাষায়, আমেরিকা ইসরায়েলের জন্য সবাইকে উৎসর্গ করে, ইসরায়েল ছাড়া আর কারও ব্যাপারে তাদের মাথাব্যথা নেই।
আরেকটি পোস্টে গালিবাফ বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বিভ্রান্ত করেছেন।
এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসরত সাধারণ মানুষকে আবারও সতর্ক করেছে ইরান। দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী ঘনিষ্ঠ গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক নির্দেশনায় দুবাইয়ের জেবেল আলি বন্দর, আবুধাবির খলিফা পোর্ট এবং মিনা আল-ফুজাইরাহ বন্দরের আশপাশের এলাকা থেকে মানুষকে সরে যেতে বলা হয়েছে।
গত দুই সপ্তাহে ইরানের পাল্টা হামলায় এসব স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে এখন পর্যন্ত ছয়জন নিহত এবং ১৪১ জন আহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক। বন্দর ছাড়াও বিমানবন্দর, হোটেল, উঁচু ভবন, অর্থনৈতিক কেন্দ্র এবং তেল স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
এর আগে ইরানের নতুন নেতা মোজতবা খামেনি তার প্রথম বক্তৃতায় সতর্ক করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে থাকা সব মার্কিন সামরিক ঘাঁটি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় সেগুলোর ওপর হামলা অব্যাহত থাকবে।
বিডিপ্রতিদিন/কবিরুল