যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে তাদের সামরিক বাহিনী পুরোপুরি প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত ওয়াশিংটন ও ইসরায়েলের সাথে চলমান যুদ্ধ বন্ধ হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ইরান।
শনিবার ইরানি গণমাধ্যম এসএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির নীতি-নির্ধারণী উচ্চপর্যায় 'এক্সপেডিয়েন্সি ডিসার্নমেন্ট কাউন্সিল'-এর প্রভাবশালী সদস্য মোহসেন রেজায়ি এই কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের ভূখণ্ডে হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রই এই সংঘাতের সূচনা করেছে, তাই যুদ্ধ বন্ধের প্রাথমিক দায়ভারও তাদেরই নিতে হবে। রেজায়ি বলেন, কেবল মৌখিক প্রতিশ্রুতিতে হবে না বরং ধ্বংসযজ্ঞের জন্য ইরানকে শতভাগ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনাদের সম্পূর্ণ বিদায় নিতে হবে।
সংঘাতের এই উত্তপ্ত আবহে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা সাইয়্যেদ মুজতবা খামেনি মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশী দেশগুলোকে তাদের মাটিতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, বিদেশি শক্তির এই উপস্থিতি পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে এবং বাইরের হস্তক্ষেপের পথ সুগম করছে। তেহরানের পক্ষ থেকে বারবার দাবি করা হচ্ছে যে, এই অঞ্চলে টেকসই নিরাপত্তা তখনই সম্ভব যখন বিদেশি সেনারা এই এলাকা ছেড়ে চলে যাবে।
অন্যদিকে, এই যুদ্ধে ওয়াশিংটন ক্রমে কোণঠাসা হয়ে পড়ছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে আসছে। মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা মার্কিন সেনাদের হতাহতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় এবং যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় খোদ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেই তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।
সূত্র: আল মায়াদিন
বিডি প্রতিদিন/নাজমুল