যুদ্ধ নিয়ে ভুয়া খবর বা বিকৃত তথ্য ছড়ালে সম্প্রচার মাধ্যমগুলোকে লাইসেন্স হারাতে হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিউনিকেশন কমিশনের চেয়ারম্যান ব্রেন্ডন কার। তিনি বলেছেন, লাইসেন্স নবায়নের আগে সংবাদমাধ্যমগুলোর নিজেদের সংশোধনের এটাই শেষ সুযোগ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ব্রেন্ডন কার বলেন, আইন পরিষ্কার। সম্প্রচার মাধ্যমগুলোকে অবশ্যই জনস্বার্থে কাজ করতে হবে। তারা যদি তা করতে ব্যর্থ হয়, তবে তাদের লাইসেন্স বাতিল হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, মার্কিন জনগণ শত কোটি ডলার ভর্তুকি দিয়ে এসব সম্প্রচার মাধ্যমকে বিনা মূল্যে আকাশতরঙ্গ ব্যবহারের সুযোগ দেয়। এর বিনিময়ে জনগণের সঠিক তথ্য পাওয়ার অধিকার রয়েছে।
ব্রেন্ডন কারের মতে, তথাকথিত লিগ্যাসি মিডিয়া বা ঐতিহ্যবাহী সংবাদমাধ্যমগুলোর ওপর জনগণের আস্থা এখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। তার দাবি, বর্তমানে সেই আস্থা মাত্র ৯ শতাংশে রয়েছে। তিনি বলেন, ভুয়া খবর প্রচারের কারণেই এসব মাধ্যমের রেটিং তলানিতে নেমে গেছে।
সাম্প্রতিক মার্কিন নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যমের ব্যাপক অপপ্রচার ও বিকৃতির পরও যখন একজন রাজনৈতিক প্রার্থী ভূমিধস জয় পান, তখন বোঝা যায় সাধারণ মানুষ সংবাদমাধ্যমের ওপর বিশ্বাস হারাচ্ছে। এ অবস্থায় পরিবর্তনের সময় এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সম্প্রতি ইরানি হামলায় সৌদি আরবে মার্কিন ঘাঁটিতে কয়েকটি যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রতিবেদন নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আপত্তি জানান। সেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই ব্রেন্ডন কার তার পোস্টে ট্রাম্পের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের একটি স্ক্রিনশট যুক্ত করেন।
ওই পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াল স্ট্রিট জার্নালসহ কয়েকটি সংবাদপত্রের সমালোচনা করেন। সৌদি আরবের একটি বিমানবন্দরে পাঁচটি ট্যাংকার বিমান ধ্বংস হওয়ার খবরকে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তিকর বলে উল্লেখ করেন। ট্রাম্প দাবি করেন, ঘাঁটিতে হামলা হলেও কোনো বিমান ধ্বংস হয়নি। চারটি বিমান ইতিমধ্যে সচল হয়েছে এবং অন্যটি সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দ্রুত আকাশে উড়বে।
তিনি সংবাদমাধ্যমগুলোকে অসুস্থ ও বিকারগ্রস্ত আখ্যা দিয়ে বলেন, এসব মাধ্যম চায় যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে হারুক।
তবে ব্রেন্ডন কারের এই অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম। তিনি একে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন। নিউসম বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যদি কোনো সংবাদ পছন্দ না করেন, তাহলে তার এফসিসি লাইসেন্স কেড়ে নেবে এমন ধারণা স্পষ্টতই অসাংবিধানিক।
সূত্র: এএফপি
বিডি প্রতিদিন/আশিক