মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, গত মঙ্গলবার যদি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি না হতো, তবে তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে ভয়াবহ হামলার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রেখেছিল পেন্টাগন।
এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে ইরানের সেতু এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ একাধিক লক্ষ্যবস্তু গুঁড়িয়ে দেওয়ার জন্য মার্কিন বাহিনী ‘লকড অ্যান্ড লোডেড’ বা পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সেই বিতর্কিত হুমকি—যেখানে তিনি বলেছিলেন চুক্তি না হলে ‘একটি পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে’—প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে হেগসেথ নিশ্চিত করেন যে, প্রেসিডেন্ট সেই কঠোর পদক্ষেপ নিতে মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলেন।
হেগসেথ দাবি করেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই চরম হুঁশিয়ারিই ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসতে বাধ্য করেছে, যার ফলে শেষ পর্যন্ত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি সম্ভব হয়েছে।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ইরান খুব ভালো করেই জানত যুক্তরাষ্ট্র তাদের কতটা ক্ষতি করার ক্ষমতা রাখে। প্রেসিডেন্ট সরাসরি বার্তা দিয়েছিলেন যে তাদের জ্বালানি রফতানি সক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হবে এবং মার্কিন সামরিক বাহিনী কোনো বাধা ছাড়াই দেশটির অভ্যন্তরীণ অবকাঠামোতে আঘাত হানবে।
হেগসেথের মতে, ইরানের অস্তিত্বসংকটের এই বাস্তব হুমকির মুখেই তারা নতি স্বীকার করেছে এবং দ্রুত চুক্তি করার আগ্রহ দেখিয়েছে। মূলত ট্রাম্পের এই মারমুখী অবস্থানকেই যুদ্ধবিরতির নেপথ্যের প্রধান কারণ হিসেবে দেখছে মার্কিন প্রশাসন।
সূত্র: সিএনএন
বিডি প্রতিদিন/কেএইচটি