পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের সংযোগস্থল হরমুজ প্রণালির আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক নজরদারি ড্রোন নিখোঁজ হয়েছে। জরুরি সংকেত পাঠানোর কিছুক্ষণ পরই ড্রোনটির সঙ্গে নিয়ন্ত্রণকক্ষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
নিখোঁজ ড্রোনটি মার্কিন নৌবাহিনীর এমকিউ ৪সি ট্রাইটন, যার মূল্য প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার। শুক্রবার ঘটনাটি ঘটে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, ড্রোনটি টানা তিন ঘণ্টা নজরদারি শেষে ইতালির সিগোনেলা নৌঘাঁটিতে ফিরছিল। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটের তথ্য বলছে, নিখোঁজ হওয়ার আগে এটি ইরানের দিকে কিছুটা মোড় নেয় এবং জরুরি সংকেত কোড ৭৭০০ পাঠাতে শুরু করে।
এরপর ড্রোনটি দ্রুত উচ্চতা হারাতে থাকে এবং একপর্যায়ে রাডার থেকে সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে যায়। তবে এটি যান্ত্রিক ত্রুটিতে বিধ্বস্ত হয়েছে, নাকি গুলি করে নামানো হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, দুই দিন আগে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছে।
এমকিউ ৪সি ট্রাইটন ড্রোনটি যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের অধীনে উপসাগরীয় অঞ্চলে নজরদারির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি ৫০ হাজার ফুটের বেশি উচ্চতায় টানা ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় উড়তে সক্ষম। প্রায় ৭ হাজার ৪০০ নটিক্যাল মাইল পাল্লার এই ড্রোন পি ৮এ পসাইডন টহল বিমানের সহায়ক হিসেবে কাজ করে।
২০২৫ সাল পর্যন্ত মার্কিন নৌবাহিনীর কাছে এ ধরনের ২০টি ড্রোন ছিল এবং আরও ৭টি কেনার পরিকল্পনা রয়েছে।
নিখোঁজ হওয়ার এই ঘটনার মধ্যেই ইরান যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়ের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১০ হাজার ৩০০ ডলার ব্যয় করছে।
এর মধ্যে গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্রে প্রতিদিন প্রায় ৩২০ মিলিয়ন ডলার, বিমান অভিযানে ২৪৫ মিলিয়ন ডলার, নৌ অভিযানে ১৫৫ মিলিয়ন ডলার, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষায় ৯৫ মিলিয়ন ডলার, গোয়েন্দা ও সাইবার কার্যক্রমে ৪৫ মিলিয়ন ডলার এবং রসদ ও জনবলে ৩০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি, ফ্লাইটরাডার২৪
বিডি প্রতিদিন/আশিক