হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর আরোপিত ট্রানজিট ফি বা টোল এখন থেকে ইরানের জাতীয় মুদ্রা ‘রিয়াল’-এ পরিশোধ করার একটি প্রস্তাব দিয়েছে দেশটির সংসদীয় কমিটি। শুক্রবার মুম্বাইয়ে অবস্থিত ইরানের কনস্যুলেট জেনারেলের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম (এক্স) পোস্টের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানা গেছে।
ইরানের পার্লামেন্টারি ন্যাশনাল সিকিউরিটি কমিশনের প্রধান জানিয়েছেন, এই প্রস্তাবটি বর্তমানে বিবেচনাধীন রয়েছে যা কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের ক্ষেত্রে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এবং চীন দীর্ঘকাল ধরেই বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের একাধিপত্য খর্ব করার উপায় খুঁজছে এবং এই পদক্ষেপ সেই লক্ষ্য পূরণেরই একটি অংশ। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রেক্ষিতে ইরান যখন এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি অবরোধ করে, তখনই মূলত এই ‘টোল’ আদায়ের বিষয়টি আলোচনায় আসে।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবরোধ চলাকালে ইরান অনানুষ্ঠানিকভাবে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর কাছ থেকে চীনা মুদ্রা ‘ইউয়ান’-এ ট্রানজিট ফি আদায় শুরু করেছিল।
চলতি সপ্তাহে ‘লয়েডস লিস্ট’-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অবরোধ চলাকালীন ঠিক কতগুলো জাহাজ ইউয়ানে অর্থ পরিশোধ করেছে তা স্পষ্ট না হলেও গত ২৫ মার্চ পর্যন্ত অন্তত দুটি জাহাজ এই প্রক্রিয়ায় ফি প্রদান করেছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
বর্তমানে এই ফি আদায়ের প্রক্রিয়াকে আইনি কাঠামো দিতে এবং ডলারের পরিবর্তে নিজস্ব মুদ্রার ব্যবহার বাড়াতে ইরান নতুন এই সংসদীয় প্রস্তাবটি সামনে এনেছে। সামরিক উত্তেজনার মাঝে ইরানের এই কৌশলগত অর্থনৈতিক পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ব্যয় বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা
বিডি প্রতিদিন/কেএইচটি