মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে পাকিস্তানে শুরু হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত 'ইসলামাবাদ টকস'। শনিবার রাজধানী ইসলামাবাদে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন।
এই আলোচনার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিরসনে পাকিস্তান একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘সেতু’ হিসেবে কাজ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী।
মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তার সঙ্গে রয়েছেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকে বৈঠকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এই আলোচনায় উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ উভয় পক্ষের গঠনমূলক অংশগ্রহণের প্রশংসা করে বলেন, এই আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, পাকিস্তান দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজের ভূমিকা পালন করে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যে শুরু হওয়া সংঘাতের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। সেই যুদ্ধবিরতিকে একটি স্থায়ী রূপ দিতেই ইসলামাবাদের এই কূটনৈতিক তৎপরতা।
আলোচনার টেবিলে দুই দেশের পক্ষ থেকেই ভিন্ন ভিন্ন প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ১৫ দফা সংবলিত একটি রূপরেখা দিয়েছে। এতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় অবাধ চলাচলের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ইরান তাদের ১০ দফা দাবিতে মূলত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং পারমাণবিক গবেষণার সার্বভৌম অধিকারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে এখনো উল্লেখযোগ্য মতপার্থক্য বিদ্যমান।
ইরানি স্পিকার গালিবাফ সতর্ক করে বলেছে, ওয়াশিংটনকে অবশ্যই তাদের আগের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে এবং ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করার পাশাপাশি লেবাননে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় আলোচনার অগ্রগতি কঠিন হতে পারে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আলোচনার বিষয়ে সতর্ক আশাবাদ ব্যক্ত করলেও জানিয়েছেন, শান্তি প্রক্রিয়া ব্যাহত করার যেকোনো চেষ্টার কড়া জবাব দেওয়া হবে।
সূত্র: জিও নিউজ
বিডি প্রতিদিন/নাজমুল