মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর দীর্ঘদিনের ‘চরম হুমকি ও চাপ সৃষ্টি’ কৌশল এবার ইরানের ক্ষেত্রে কার্যকর হচ্ছে না বলে বিশ্লেষণ জানিয়েছে সিএনএন। বরং এতে অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে।
সম্প্রতি ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে এখনও অনেক শক্তিশালী পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে, যা এখনো প্রয়োগ করা হয়নি। তার এমন বক্তব্যের পর শেয়ারবাজারে তাৎক্ষণিক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, সূচক প্রায় তিন শতাংশ পর্যন্ত নেমে যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের কৌশল নতুন নয়। এর আগে চীন-এর বিরুদ্ধে একই ধরনের চাপ প্রয়োগ করেছিলেন তিনি—উচ্চ শুল্ক আরোপ, বাণিজ্য বন্ধের হুমকি এবং কঠোর অবস্থান নেওয়া। তবে শেষ পর্যন্ত চীনের পাল্টা পদক্ষেপের মুখে যুক্তরাষ্ট্রকে কিছুটা পিছিয়ে আসতে হয়। এখন ইরানের ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে।
বর্তমানে উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে হরমুজ প্রণালি, যার মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ খুলে না দিলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। এমনকি মার্কিন নৌবাহিনী দিয়ে প্রণালিটি অবরোধ করার কথাও বলেছেন তিনি।
তবে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এই কৌশল এখন আর কেবল বাণিজ্যিক চাপের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি সরাসরি সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে।
এদিকে ইরানও শক্ত অবস্থানে রয়েছে। দেশটির নেতৃত্ব স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তারা সহজে পিছু হটবে না। বরং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণকে কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবিলা করতে প্রস্তুত তেহরান।
ট্রাম্পের অবরোধের হুমকির পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে প্রায় ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১০২ ডলারে পৌঁছেছে। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে দাম ১২০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিডি-প্রতিদিন/টিএ