ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে অবশেষে মুখ খুলেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। গত ছয় সপ্তাহ ধরে চলা এই সংকট নিরসনে তিনি বেইজিংয়ের অবস্থান তুলে ধরে বিশ্বকে ‘জঙ্গলের আইনে’ ফিরে না যাওয়ার জন্য সতর্ক করেছেন।
মঙ্গলবার বেইজিংয়ে আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চারটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ করেন।
গত দেড় মাস ধরে চীনের কূটনীতিবিদরা পরিস্থিতি সামাল দিলেও এবার সরাসরি মাঠে নেমেছেন শি জিনপিং। চীনা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে দুই নেতা উপসাগরীয় অঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। শি জিনপিং পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, চীন এই অঞ্চলে শান্তি ও সংলাপের জন্য গঠনমূলক ভূমিকা পালন অব্যাহত রাখবে। তার ঘোষিত ‘চার প্রস্তাবের’ মূল ভিত্তি হলো রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং একটি টেকসই নিরাপত্তাকাঠামো গড়ে তোলা।
মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটব্যবস্থাকে পরোক্ষভাবে কটাক্ষ করে চীনা প্রেসিডেন্ট বলেন, বিশ্বের নিরাপত্তাব্যবস্থা এমন হওয়া উচিত যা কারও জন্য হুমকি হবে না। তিনি আন্তর্জাতিক আইনের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এই আইনের প্রয়োগ হতে হবে সবার জন্য সমান। নিজের সুবিধামতো আন্তর্জাতিক আইন ব্যবহার বা তা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। আইনকে বেছে বেছে প্রয়োগ করা হলে বিশ্ব আবারও সেই প্রাচীন আদিম ‘জঙ্গলের আইনে’ ফিরে যাবে, যেখানে জোর যার মুলুক তার—যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
শি জিনপিং তার প্রস্তাবে প্রতিটি দেশের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, সব দেশের নাগরিক, স্থাপনা এবং প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব। একইসঙ্গে নিরাপত্তা ও উন্নয়নের মধ্যে সমন্বয় করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মূলত যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা পদক্ষেপের সমালোচনা করতে বেইজিং প্রায়ই ‘জঙ্গলের আইন’ শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করে থাকে, যা এবারও শি জিনপিংয়ের কণ্ঠে উঠে এলো। মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি ফেরাতে চীনের এই চার প্রস্তাব বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের আভাস দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র: সিএনএন
বিডি প্রতিদিন/কেএইচটি