ইরান অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রাথমিক লক্ষ্যসমূহ অর্জন করেছে বলে দাবি করেছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ওয়াশিংটন এখন ইসলামিক প্রজাতন্ত্রটির বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক অভিযান গুটিয়ে নিতে প্রস্তুত। ভ্যান্সের মতে, বড় ধরনের সফল আলোচনার মাধ্যমেই এই প্রক্রিয়ার সমাপ্তি টানা এখন ওয়াশিংটনের অগ্রাধিকার।
পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক আলোচনা কোনো চূড়ান্ত চুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ার পর এই মন্তব্য করলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট। ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে মার্কিন আলোচকরা তেহরানের পারমাণবিক উপাদান সরিয়ে নেওয়া এবং ভবিষ্যতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ রোধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানান। ভ্যান্সের দাবি, আলোচনায় ইরান কিছুটা নমনীয় হয়েছে এবং বিষয়টি ইতিবাচক দিকে মোড় নিয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য ইরানি আলোচকরা তেহরানের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। ভ্যান্স স্পষ্ট করে বলেছেন, এখন বল পুরোপুরি ইরানের কোর্টে এবং তারা যুক্তরাষ্ট্রের বেঁধে দেওয়া ‘রেড লাইন’ মেনে নিলে উভয় দেশের জন্যই এটি একটি অত্যন্ত ভালো চুক্তি হতে পারে।
এদিকে এমন এক সময়ে এই বক্তব্য এল যখন হরমুজ প্রণালীতে ইরানি বন্দরগুলোতে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে গৃহীত এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য ছিল তেহরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসতে বাধ্য করা এবং গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি পথটি পুনরায় সচল করা। এই উত্তেজনার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে।
অন্যদিকে, ওয়াশিংটনের এই দাবি ও মনোভাব নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছে তেহরান। ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজি সংবাদমাধ্যম আরটিকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রই এই চুক্তির জন্য বেশি মরিয়া। তিনি দেন, ওয়াশিংটনকে অবশ্যই ইরানের শর্তগুলো মেনে নিতে হবে, অন্যথায় তেহরান তার নিজস্ব পথেই চলবে।
বিডি প্রতিদিন/এনএইচ