চীনের নির্মিত স্যাটেলাইট ব্যবহার করে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি নজরদারি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে বেইজিং এই দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছে।
একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় ইরান এই স্যাটেলাইট ব্যবহার করে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ওপর নজরদারি চালায়।
খবর অনুসারে, টি-ই-ই–০১বি নামের স্যাটেলাইটটি ২০২৪ সালের শেষ দিকে চীন থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়। এরপর ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের মহাকাশ শাখার কাছে এটির পাওয়া তথ্য হস্তান্তর করা হয়। মার্চ মাসে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আগে এবং পরে বিভিন্ন মার্কিন স্থাপনা পর্যবেক্ষণে এই স্যাটেলাইট ব্যবহার করা হয়।
স্যাটেলাইট নজরদারির আওতায় ছিল সৌদি আরব, জর্ডান, বাহরাইন, ইরাক, কুয়েত, জিবুতি ও ওমানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি। প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটির একাধিক দিনের চিত্রও ধারণ করা হয়েছে বলে খবরে দাবি করা হয়েছে।
ইরানে ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধে পাল্টা হামলার অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন ঘাঁটি তেহরানের হামলার শিকার হয়। সৌদিতে মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে থাকা কয়েকটি জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের স্থাপনা, উপসাগরীয় অঞ্চলের কৌশলগত বিমানঘাঁটি ও বন্দরগুলোকেও নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের কিছু বন্দর এবং জ্বালানি স্থাপনাও স্যাটেলাইটে চিত্র ধারণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
স্যাটেলাইটটির রেজোলিউশন প্রায় আধা মিটার, যা ইরানের আগের নূর-৩ সিস্টেমের তুলনায় অনেক বেশি স্পষ্ট।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি ইরানের সামরিক নজরদারি সক্ষমতায় বড় ধরনের উন্নয়ন নির্দেশ করে। বিশেষ করে লক্ষ্য নির্ধারণ এবং হামলার পর ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নে এটি কার্যকর হতে পারে।
তবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইরানকে স্যাটেলাইট সরবরাহের সংবাদকে ‘সম্পূর্ণ মনগড়া’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসও প্রতিবেদনটিকে ‘অনুমাননির্ভর বিভ্রান্তিকর তথ্য’ বলে দাবি করেছে। তাদের বক্তব্য, চীন শান্তি প্রতিষ্ঠার পক্ষে। সংঘাত বাড়ায় এমন কোনো পদক্ষেপে জড়িত নয়।
বিডিপ্রতিদিন/কবিরুল