ইরান যেকোনো ধরনের সাময়িক যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান করছে এবং পুরো অঞ্চলে যুদ্ধের একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী অবসান চাইছে বলে জানিয়েছেন দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহ।
শুক্রবার আন্তালিয়া ডিপ্লোমাসি ফোরামের পার্শ্ববৈঠকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন সাঈদ খাতিবজাদেহ।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যেকোনো যুদ্ধবিরতিতে ‘লেবানন থেকে লোহিত সাগর’ পর্যন্ত সমস্ত সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। তিনি বিষয়টিকে ইরানের জন্য একটি ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা হিসেবে বর্ণনা করেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো সাময়িক যুদ্ধবিরতি গ্রহণ করছি না।’ তিনি আরও যোগ করেন, সংঘাতের এই চক্র ‘এখনই চিরতরে শেষ হওয়া উচিত’।
হরমুজ প্রণালী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঐতিহাসিকভাবে এই জলপথ সবসময় উন্মুক্ত ছিল। এটি ইরানের জলসীমার মধ্যে অবস্থিত হলেও দীর্ঘকাল ধরে সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
তিনি অঞ্চলটিতে অস্থিতিশীলতা তৈরির জন্য যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলকে অভিযুক্ত করেন। তিনি দাবি করেন যে, তাদের কর্মকাণ্ড বিশ্ব বাণিজ্য এবং বৃহত্তর অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
উল্লেখ্য-গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে সমন্বিত হামলা চালায়। এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। ক্ষতিগ্রস্ত হয় দেশটির সামরিক ও বেসামরিক বহু স্থাপনা। পাঁচ সপ্তাহে ইরানে ৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরানও হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয়। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দেয়।
গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এ যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হবে আগামী ২২ এপ্রিল।
সূত্র : আল-জাজিরা।
বিডি-প্রতিদিন/বিএম