ইরানের পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে ভূগর্ভস্থ একটি স্থাপনা ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সেখানে পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি চালানো হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, তাদের বিমান হামলায় ইরানের কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে এবং দেশটির কর্মসূচি বড় ধাক্কা খেয়েছে। তবে এর মধ্যেও পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের একটি স্থাপনা অক্ষত রয়ে গেছে বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই স্থাপনাটি এত গভীরে অবস্থিত যে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী বাংকার বাস্টার বোমাও সেখানে পৌঁছাতে নাও পারে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি ফোরদোর চেয়েও প্রায় ২ হাজার ফুট বেশি গভীরে গ্রানাইট পাথরের নিচে নির্মিত।
যদিও অনেকে মনে করছেন, স্থাপনাটি এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। তবে ভবিষ্যতে এটি ইরানের জন্য এমন একটি নিরাপদ স্থান হয়ে উঠতে পারে, যেখান থেকে পারমাণবিক কর্মসূচি পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার মধ্যেও এই স্থাপনাটি নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। কেউ কেউ ঝুঁকিপূর্ণ স্থল অভিযানের প্রস্তাব দিলেও অন্যরা তা অবাস্তব বলে মনে করছেন। তাঁদের মতে, কেবল সামরিক শক্তি দিয়ে ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে বিরত রাখা সম্ভব নয়।
এ অবস্থায় কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন অনেক বিশ্লেষক। তাঁদের মতে, যেকোনো সম্ভাব্য চুক্তিতে পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন কর্মসূচি বন্ধ করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।
পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন সম্পর্কে খুব কম তথ্যই প্রকাশ্যে রয়েছে। স্থানীয়ভাবে এটি কোহ ই কোলং গাজ লা নামে পরিচিত। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, আগের হামলার পরও সেখানে নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরান এই স্থাপনাকে আরও সুরক্ষিত করতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সেখানে প্রবেশপথ মজবুত করা এবং ভেতরের অবকাঠামো উন্নয়নের ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা এই স্থাপনায় প্রবেশের অনুমতি পায়নি, যা সন্দেহ আরও বাড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এখানে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সংক্রান্ত কার্যক্রম চালানোর সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
তবে পুরো বিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয়। পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস
বিডি প্রতিদিন/আশিক