সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো সরিয়ে নেওয়ার সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রভাবশালী রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সিনিয়র স্কলার ড. আব্দুলখালেক আব্দুল্লাহ।
আমিরাতের নীতিনির্ধারক মহলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই একাডেমিক মনে করেন, মার্কিন ঘাঁটিগুলো এখন আর কৌশলগত সম্পদ নয় বরং আমিরাতের জন্য একটি বোঝায় পরিণত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি সরাসরি উল্লেখ করেন, ইরানসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক সংকটে আমিরাত প্রমাণ করেছে তারা নিজেদের রক্ষা করতে সক্ষম। ফলে ওয়াশিংটনের ওপর সামরিকভাবে নির্ভরশীল থাকার প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে আসছে।
আব্দুলখালেক আব্দুল্লাহর মতে, বর্তমানে আরব আমিরাতের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত আমেরিকার কাছ থেকে কেবল অত্যাধুনিক অস্ত্র ও প্রযুক্তি সংগ্রহ করা, কোনো সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখা নয়। তবে এই বক্তব্যের বিপরীতে ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন আরেক বিশিষ্ট বিশ্লেষক নাদিম কোতেইচ। তিনি মনে করেন, ওয়াশিংটন ও আবুধাবির সম্পর্ক কেবল সামরিক ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয় বরং প্রযুক্তি, শিল্প এবং অর্থনীতির প্রতিটি স্তরে যুক্তরাষ্ট্র একটি নির্ভরযোগ্য মিত্র হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছে। তাই তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্পর্কের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি করতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।
২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ভয়াবহ অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধের শুরু থেকে ইরান আমিরাতকে লক্ষ্য করে কয়েকশ ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। যদিও এর অধিকাংশই প্রতিহত করা হয়েছে, তবুও দুবাই ও আবুধাবির পর্যটন, আবাসন এবং শেয়ার বাজারে এর চরম নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। যুদ্ধের কারণে এরই মধ্যে দুবাই ও আবুধাবি স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে বিপুল অংকের মূলধন হারিয়ে গেছে এবং হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
বর্তমানে আমিরাতের আল-ধফরা বিমানঘাঁটিসহ বিভিন্ন স্থানে প্রায় সাড়ে তিন হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে।
বিডি প্রতিদিন/এনএইচ