ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা নিরসনে এবং কার্যকর কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে হলে জনসমক্ষে প্রচার না চালিয়ে বরং পর্দার আড়ালে গোপনে আলোচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। পাকিস্তানে দুই দেশের মধ্যে দ্বিতীয় দফা বৈঠকের প্রস্তুতি চলাকালীন এমন পরামর্শ দিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের সাবেক মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক উপদেষ্টা জেসমিন এল-গামাল।
তার মতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাবলিক স্টেটমেন্ট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টগুলো আলোচনার পথে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সিএনএন-এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এল-গামাল বলেন, ইরানিরা সাধারণত নির্দিষ্ট ইস্যুগুলো নিয়ে সরাসরি আলোচনার টেবিলে বসতে চায়। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার এমনভাবে বক্তব্য দিচ্ছেন যেন ইরানিরা আলোচনার টেবিলে আসার আগেই পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছে। ট্রাম্পের এই ধরনের আচরণকে ‘আধিপত্যের প্রকাশ’ হিসেবে দেখছেন এই বিশেষজ্ঞ, যা বর্তমান বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তার মতে, এ ধরনের বক্তব্য আলোচনার পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলছে।
জেসমিন এল-গামাল আরও উল্লেখ করেন, দুই পক্ষই বর্তমানে তাদের লক্ষ্য থেকে অনেকটা দূরে অবস্থান করছে এবং একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে হলে উভয় দেশকেই কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দিতে হবে। আর এই সমঝোতার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সংবাদ শিরোনাম এবং প্রচারণার আলোকছটা থেকে দূরে থেকে শান্তভাবে আলোচনা করা। একটি শক্তিশালী ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তিতে পৌঁছাতে হলে পর্দার আড়ালের এই গোপনীয়তা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মনে করেন।
বিডি প্রতিদিন/কেএইচটি