ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার কৃষ্ণসাগর উপকূলবর্তী তুয়াপসে বন্দরে আবারও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার ভোরে চালানো এই হামলার মাধ্যমে চতুর্থবারের মতো বন্দরটিকে লক্ষ্য করল কিয়েভ। এবারের হামলায় শুধু সামুদ্রিক টার্মিনাল নয়, রোসনেফ্ট পরিচালিত একটি তেল শোধনাগারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ক্রাসনোদার অঞ্চলের জরুরি সহায়তা কেন্দ্র জানিয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে শতাধিক কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। তবে আঞ্চলিক গভর্নর ভেনিয়ামিন কন্দ্রাতিয়েভ এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেননি।
বন্দরটিতে কিয়েভের ধারাবাহিক হামলায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বেড়েছে বিষাক্ত বেনজিনের ঝুঁকি। কর্তৃপক্ষ জরুরি সতর্কতা জারি করে জনসমাগম বন্ধ রেখেছে এবং বাসিন্দাদের ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
দেশটির ভোক্তা সুরক্ষা সংস্থা রস্পোট্রেবনাদজর বাসিন্দাদের জন্য সতর্কতা জারি করেছে। বাইরে কম সময় কাটাতে, জানালা বন্ধ রাখতে এবং মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেনজিন জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর হুমকি। এটি দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সারের ঝুঁকি তৈরি করে।
এদিকে নিউইয়র্কভিত্তিক স্বাধীন সম্প্রচারমাধ্যম আরটিভিআই জানিয়েছে, তুয়াপসের তেল শোধনাগারটিতে আগুন দেখা গেছে। তবে তারা সামুদ্রিক টার্মিনালে আগুনের দৃশ্য দেখতে পায়নি, যেটিকে কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত বলছে। একই সঙ্গে শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের খবরও পাওয়া গেছে।
এর আগে মঙ্গলবার একই এলাকায় ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটে। তাতে উপকূলীয় পানিতে তেলের আস্তরণ ছড়িয়ে পড়ে এবং আশপাশের বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়। চারদিন চেষ্টার পর বৃহস্পতিবার সেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
শিল্প খাতের একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, ১৬ এপ্রিলের প্রথম হামলার পর থেকেই রোসনেফ্ট পরিচালিত শোধনাগারটির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন ১ থেকে ১১ মে পর্যন্ত সব ধরনের জনসমাবেশ বাতিল করা হয়েছে। এ সময়ে রাশিয়ায় সাধারণত শ্রমিক দিবস ও বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে বড় আয়োজন হয়ে থাকে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত রাত থেকে সকাল পর্যন্ত ১৪১টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। যা হামলার তীব্রতা স্পষ্ট করে।
রাশিয়ার ভেতরে জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইউক্রেনের ধারাবাহিক ড্রোন হামলা এখন যুদ্ধের কৌশলে বড় পরিবর্তন এনেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কম খরচে পরিচালিত এসব হামলায় তেল শোধনাগার, সংরক্ষণাগার ও রপ্তানি টার্মিনাল সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে রাশিয়ার জ্বালানি আয় ও সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হচ্ছে।
রয়টার্সের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই হামলাগুলো রাশিয়ার তেল প্রক্রিয়াকরণ সক্ষমতার একটি উল্লেখযোগ্য অংশে বিঘ্ন ঘটিয়েছে। যা যুদ্ধের অর্থায়নে প্রভাব ফেলতে পারে। আল-জাজিরা জানিয়েছে, ইউক্রেন পরিকল্পিতভাবে রাশিয়ার জ্বালানি খাতকে লক্ষ্য করছে, যাতে সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করা যায়। রাশিয়া এসব হামলাকে ‘জ্বালানি স্থিতিশীলতা নষ্ট করার প্রচেষ্টা’ বলে অভিযোগ করছে।
সূত্র: মস্কো টাইমস, রয়টার্স
বিডি-প্রতিদিন/এমই